ড. ইফতেখার আহমদ
আন্তর্জাতিক চা দিবস: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট ও চা শিল্পে AI প্রযুক্তির ব্যবহার
অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন
প্রকাশঃ ৮ মার্চ, ২০২৬ ১:৪৮ পূর্বাহ্ন
আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করেছে। এই আক্রমণের ফলে কি ইরান পরাজিত হবে? স্পষ্ট উত্তর - না। তাহলে কি এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইল পরাজিত হবে? তারও উত্তর - না।
যুদ্ধটি অসম হলেও এই যুদ্ধে কোন পক্ষেরই বিজয়ী হওয়া সম্ভাবনা নেই। সমরাস্ত্রের দিক থেকে আমেরিকা ও ইসরাইল অবশ্যই ইরানের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু তারপরেও এটি সত্য যে, এই যুদ্ধে আমেরিকা বা ইসরাইল বিজয়ী হতে পারবে না।
তার প্রধান কারণ এরা আক্রমণ করছে এমন একটি দেশ যার নাম ইরান। এই ইরান বা পারস্য কখনো কারো কাছে মাথা নত করে না, পরাভূত হয় না। পাঁচ সহস্রাধিক বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে ইরানের। পারস্যের বীরত্বগাঁথা সারা বিশ্বে সমাদৃত। মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা জাতি ইরান।
ইসলামের পূর্ব থেকেই ইরানিরা সাহসী, সৎ, বীর ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের ছায়াতলে আসার পর তাদের এই গুণগুলো আরো বহুগুণে বেড়ে গেছে।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানকে তছনছ করে পরাজিত করবে। ইতোমধ্যে তারা ইরানের শীর্ষ নেতাসহ অনেককে হত্যা করেছে। ধ্বংস করেছে ইরানের অনেক স্থাপনা। শিশু ও নারীদের হত্যা করেছে। কিন্তু তারপরেও ইরান মাথানত করেনি।
সামনের দিনগুলোতে আমেরিকা ও ইসরাইল তাদের আক্রমণ আরো বৃদ্ধি করবে। ফলে ইরানের হাজার হাজার সৈনিক, সেনাপতি ও সাধারন মানুষ নিহত হবে। ধ্বংস হবে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বিভিন্ন শহর। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তাতেও ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।
একটা সময় আমেরিকা ও ইসরাইলের আকাশ আক্রমণ সীমিত হয়ে যাবে। তারা স্থল আক্রমণের চেষ্টা করবে। কিন্তু ইরান একটি বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রাকৃতিক দেশ। রয়েছে প্রচুর পাহাড়-পর্বত। বহিঃশত্রু স্থলভাগে এখানে তেমন একটা সুবিধা করতে পারবে না।
এছাড়া ইরানে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ ছিল, আমেরিকা-ইসরাইলের আক্রমণের ফলে তাদের সে ক্ষোভ কমে গিয়েছে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও ইসলামপ্রেম পুনর্জাগরিত হয়ে তাদেরকে একতাবদ্ধ করেছে। একতাবদ্ধ কোন জাতিকে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে পরাজিত করা যায় না। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ।
আমেরিকা-ইসরাইলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো। কিন্তু ইরান এবার চতুরতার সাথে আমেরিকা সেই ঘাঁটিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
এক্ষেত্রে ইরানের সামরিক কৌশলের প্রশংসা না করে কোন উপায় নেই। আমেরিকা ও ইসরাইল যখন যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করে, পাল্টা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরান আমেরিকা বা ইসরাইলকে বেছে নেয়নি। বরং তারা তাদের দেশের চারপাশে থাকা দেশগুলোতে আমেরিকার ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমেরিকা ও ইসরাইল যে সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল তা আর সম্ভব হবে না।
অনেকে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ইরানের আক্রমণ করা অন্যায় হয়েছে। কেননা এসব দেশে মুসলমানরাই বসবাস করে। কিন্তু তাদের এ বয়ান সম্পূর্ণরূপে ভুল। কারণ ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আক্রমণ করেনি, আক্রমণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে।
এই সামরিক ঘাঁটিগুলো অনেকটা স্বাধীন রাষ্ট্রের মতই। অর্থাৎ আমেরিকার অনুমতি ছাড়া ওইসব ঘাঁটিতে প্রবেশ করার অধিকার সেসব দেশের নেই। এরূপ অন্যায্য সামরিক ঘাঁটি থাকায় জাপান দীর্ঘদিন ধরে তাদের দেশের সামরিক ঘাঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি করছে। কিন্তু চুক্তির অজুহাতে আমেরিকা সেসব ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা ইরানের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এখন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে আমেরিকা-ইসরাইলের চেয়ে ইরান সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।
এই যুদ্ধে ইরানকে যদি পরাজিত না করা যায়, তবে খুব শীঘ্রই ইরান পারমানবিক শক্তি অর্জন করবে। ফলে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। আর ইরান পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের কর্তৃত্ব নিঃশেষ হয়ে যাবে।
[সিলেট ভয়েস-এ প্রকাশিত অভিমত, মতামত, কলাম ও চিঠিপত্র একান্তই লেখকের নিজস্ব। এতে প্রকাশিত মন্তব্য, বিশ্লেষণ বা বক্তব্য সিলেট ভয়েস-এর অবস্থান, নীতিমালা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। লেখকের উপস্থাপিত তথ্য বা বক্তব্যের দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে লেখকের নিজের।]