রিপন ঘোষ
পায়ের নিচে সুপ্ত বিপদ: বাংলাদেশের ভূমিকম্পের অতীত, বর্তমান ও আসন্ন মহাবিপদ
ডা. নাহরীন আহমেদ
প্রকাশঃ ৬ মার্চ, ২০২৬ ৭:০৫ অপরাহ্ন
[মূল নিবন্ধটি ৪ মার্চ, ২০২৬ তারিখে বেঙ্গল গেজেটে প্রকাশিত। বেঙ্গল গেজেটের অনুমতি সাপেক্ষে সিলেট ভয়েসে প্রকাশের জন্য বাংলায় অনূদিত।]
ড্রোনের শব্দ এত প্রচণ্ড যে আমি যেন আমার চিন্তার আওয়াজও শুনতে পাচ্ছিলাম না। বুকের ভেতর ধড়ফড় অনুভব করছিলাম, তবু তার চেয়েও ভয়ঙ্কর শোনাচ্ছিলো ২০০ মিটারের কম দূরত্বে মিসাইল বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দ। প্রতিটি বিস্ফোরণে দেয়ালও কেঁপে উঠছে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়েছে চারপাশে, আমরা ম্যাট্রেস ঠেঁসে ধরে আছি জানালায়, এরইমধ্যে একপলকে দেখে নেই বাহিরটা।
ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক বিল্ডিং ঘিরে রেখেছে। আমরা নিচে ইমার্জেন্সি রুমের দিকে নামলাম। কয়েক সিড়ি নেমে দেখি নাসের হাসপাতালের দোতলা কালো ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ছে। সবদিকে শুধু মানুষ, আর মানুষ। কিছু রোগী, বাকিরা জড়ো হয়েছেন নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়– ভাবছেন হাসপাতাল চত্ত্বরটুকু অন্তত রেহাই পাবে।
চারপাশের তীব্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে দাড়িয়ে আমি এমন একজন ব্যক্তির সাথে আমার এক গভীর টান অনুভব করলাম যাকে আমি কখনও দেখিনি। তিনি আমার দাদা– ডা. শামসুদ্দীন আহমদ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ায় তাকে হত্যা করেছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তাঁর গল্প আমাকে শিখিয়েছে যে যুদ্ধকালে স্বাস্থ্যসেবাকর্মী কিংবা হাসপাতাল কেউই নিরাপদ নয়, তবুও, আমি যেন আমার পরিবারের ইতিহাস পুনরাবৃত্তির প্রান্তে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি।
আমার দাদাভাই ডা. শামসুদ্দীন আহমদ ছিল সর্বজনপ্রিয়, শ্রদ্ধেয়, অগ্রগন্য এক চিকিৎসক। তিনি বিশ্বাস করতেন সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার অধিকারে, আর তার এই বিশ্বাসকে তিনি বিনামূল্যের চক্ষুসেবা ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। এসকল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত অজস্র মানুষ বিনামূল্যের ক্যাটার্যাক্ট সার্জারির মাধ্যমে দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন। সহমর্মিতা ও সম্মানের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেওয়া ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি। স্বাস্থ্যসেবা প্রদান যে কতবড় গুরুদায়িত্ব, তা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন, এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও।
ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনে যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যা করা হয়েছিলো, দাদাভাই তখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সরব ছিলেন।

অধ্যাপক শামসুজ্জোহার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আইয়ুবশাহী বিরোধী অভ্যুত্থান এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা পূর্ব-পাকিস্তানে, ত্বরাণ্বিত হয় আইয়ুব খানের পতন। মাত্র দুই বছর পর দেশজুড়ে যে বিপ্লবের ঢেউ উঠতে যাচ্ছিল, এ আন্দোলন ছিল তারই পূর্বাভাস।
এসময় রাজনীতিক নয়, বরং একজন চিকিৎসক হিসেবে দাদাভাইয়ের স্বোচ্চার কন্ঠস্বর একটা বিষয় পরিষ্কার করে দেয় যে তার দায়িত্ব শুধুমাত্র হাসপাতালের চারদেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। এই মূল্যবোধ তাঁর কাছে অ্যাবস্ট্রাক্ট কোন আদর্শ ছিল না, বরং এসবই ছিল তার নিত্যদিনের চর্চা, যা তার জীবনের শেষ সময়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তেও তাকে পথ দেখিয়েছিলো।
৮ এপ্রিল, ১৯৭১ সাল। দাদাভাই ডাক্তার শামসুদ্দীন তার নিয়মিত অভ্যাসবশত চাচার বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার চাচা তাকে আঁকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এই উত্তাল সময়ে তুমি হাসপাতালে কেনো যাচ্ছো? এর চেয়ে বাড়িতে পরিবারের কাছে চলে যায়, নিরাপদে তাকো।’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘না, আমার দায়িত্ব এখানে থাকা। পাকিস্তান আর্মি আমাকে হত্যা করতে পারে না কারণ আমি হাসপাতালে কর্মরত একজন ডাক্তার।’
যখন অজস্র চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তার কথা ভেবে চলে গিয়েছিলেন, তখন তিনি এবং আরো কয়েকজন রয়ে গিয়েছিলেন রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা ভেবেছিলেন যদি সবাই চলে যায়, তাহলে রোগীদের দেখবে কে?

পরদিন, ৯ এপ্রিল, পাকিস্তান সেনাবাহিনী হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘণ করে তারা গণহত্যা চালায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের, যাদের মধ্যে ছিলেন আমার দাদাভাইও।
আমি যখন নাসের হাসপাতালকে গ্রাস করতে থাকা কালো ধোঁয়ার মধ্যে দাড়িয়ে, তখন বুঝতে পারলাম কেনো পাকিস্তান সেনাবাহিনী আসছে এবং তাকে হয়তো তার পরিবার ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে হতে পারে জেনেও তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।
ভয়ের সামনে মানবতা কখনো হেরে যেতে পারে না।
আমার এ উপলব্ধি গাজায় কাটানো সময় থেকে আসেনি, এ উপলব্ধি আমার উত্তরাধিকার। যুদ্ধ, নীরবতা ও বেঁচে থাকার গল্পের মধ্যে দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বয়ে আসা এক শিক্ষা, বাংলাদেশের রক্তাক্ত জন্মলগ্নে যার সূচনা করেছিলেন আমার দাদাভাই।
ছোটবেলায় আমার মনে আছে, দাদা-দাদীকে ঘিরে খুব অল্প কিছু গল্পই শুনেছি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। তাদের সন্তানদের রক্ষা করার জন্য যে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা– সে গল্প। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে কীভাবে তারা নতুন করে জীবন গড়ে তুলেছিলেন– সেসব গল্প। কিছু গল্প বলা হয়েছে, কিন্তু অনেক গল্প অজানাই রয়ে গেছে।
অজস্র গল্প লুকিয়ে আছে সেরে না উঠা ক্ষতের অন্তরালে। কিছু গল্প পরবাসী জীবনের যন্ত্রণাকে ব্যাখ্যা করে, আবার কিছু গল্প অজান্তেই প্রবাসী বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। গাজার গণহত্যার মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি বুঝতে শুরু করি কেন সেসব গল্প আজও বলা হয়ে উঠেনি।
গাজায় আমি একবার একজন নার্সকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘চারিদিকে যা দেখছো, এ পরিস্থিতির সাথে কীভাবে মানিয়ে নাও?’ তার উত্তর ছিল খুবই সাধারণ। ‘যা দেখছি তা নিয়েই যদি ভাবতে থাকি, তবে তা আমাদের শেষ করে দিবে। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, কাজ করে যেতে হবে।’

আমার বাবা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, আর আমার না বলা গল্পের বেশিরভাগই তার নিজের জীবনের গল্প। তার শোনা গল্পের মধ্যে একটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের প্রাক্কালে তাকে উদ্দেশ্য করে আমার দাদাভাইয়ের প্রশ্ন– এই লড়াই কী সত্যিই নিজের জীবনের ঝুঁকি নেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ?
এই মুহূর্তটি যেন অজান্তেই আবারও সৃষ্টি হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন আমি গাজার পথে যাত্রা শুরু করি। যখন আমি ফিরে আসি, বাবা আমার অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছিলেন। আমি যা প্রত্যক্ষ করেছিলাম, তা তাকে বলি। এবং আমার বেড়ে ওঠা সময়ে এই প্রথমবার অনুভব করলাম যে আমরা দুজনেই একই অভিজ্ঞতার সূত্রে আবদ্ধ হয়েছি।
এই আবদ্ধ মুহূর্তে আমি অনুভব করলাম মানবতা ন্যায্য আদর্শের জন্য দাঁড়ানোর যে গুণ আমার মাঝে রয়েছে, তা আসলে ছেলেবেলায় শোনা সেসকল গল্পের প্রভাব।
২০২৪ সালের মার্চে যখন আবারও গাজায় ফিরি, পুরো উপত্যকাজুড়ে যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখলাম তা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সহকর্মীরা বলছিলেন সেসব পরিবারের সদস্যদের কথা, প্রতিবেশীদের সেসব সন্তানদের কথা যাদেরকে তারা নিজের করে নিয়েছিলেন, যারা হারিয়ে গেছেন চিরতরে কিংবা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। বিপদের মুখে পাশে দাঁড়ানো, যেন মানবতার এক বিনম্র গভীরতা। আমার মনে পড়ে গেল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমার মা এবং তাঁর ভাইবোনদের সেই গল্পের কথা—তাঁরাও তখন একইভাবে দীর্ঘ সময় একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
মা শোনাতেন তাঁর বাবার কথা, যিনি ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যখন চরম অস্থিরতা দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই পশ্চিম পাকিস্তান ছেড়ে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই উত্তাল সময়ে তিনি অসংখ্য মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন, এমনকি অকাতরে আর্থিক সাহায্যও করেছেন। সাত মেয়ে আর দুই ছেলের বাবা ছিলেন তিনি; কিন্তু মেয়েদের মনে কখনও এই তফাতটুকুও আসতে দেননি যে তারা ছেলেদের চেয়ে আলাদা। এই অনন্য গুণটি আজও আমার মায়ের মাঝে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
ঢাকার বাসায় যখন পাকিস্তানি সেনারা হানা দিল, তখনকার কথা মায়ের স্পষ্ট মনে পড়ে; ঘরবাড়ির সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিলেও মা বিন্দুমাত্র ভয় পাননি, অন্তত বাইরে থেকে তা প্রকাশ পেতে দেননি। আমার নানাকে তখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল– পুরো পরিবারকে নিয়ে ঢাকায় থেকে যাওয়া, নাকি নৌকায় করে পালানোর সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া। চারিদিকে তখন নারী নির্যাতনের ভয়াবহ সব খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় সাত-সাতটি মেয়েকে নিয়ে পথে বের হওয়ার চিন্তায় তিনি বিচলিত ছিলেন। তখন তিনি এমন একটি কথা বলেছিলেন, যা আমি আজ গাজায় এসে অসংখ্যবার শুনেছি— ‘যদি কিছু ঘটতেই হয়, তবে তা আমার নিজের ঘরেই ঘটুক। যদি আমাদের মরতেই হয়, তবে তাই হোক।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় তৃতীয়বারের মতো যাই। সেসময় আমি ফিলিস্তিনিদের অকৃত্রিম আতিথেয়তা আর হৃদয়ের বিশালতা অনুভব করলাম যা তাদের জাতিসত্ত্বায় মিশে আছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি আমাদের নিজেদের সংস্কৃতিতেই ঠিক একই বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাই, যা আমার অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গাজায় আমার যার সাথেই দেখা হয়েছে, তিনিই আমাকে বাড়িতে দাওয়াত দিয়েছেন। চরম দুর্ভিক্ষের দিনে যখন খাবার ও চা দুর্লভ, তখনও তা দিয়েই আপ্যায়ন করতে চেয়েছেন। মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু কিংবা ইহুদী– এই উদার আতিথেয়তা ছিল সবার জন্য অবারিত।
এই গল্প যখন আমি আমার বাংলাদেশি হিন্দু এক বন্ধুকে বলি, সে আমাকে তার খালা-খালুর গল্প শোনায় যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হিন্দু-হত্যাযজ্ঞের মুখে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। সে আমাকে মুসলিম এক পরিবারের গল্প শোনায় যারা তাঁদের নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেও তার খালা-খালুদের লুকিয়ে রেখেছিলেন।
বাংলাদেশের রক্তস্নাত জন্মলগ্নের গল্প যখন পড়ি, তখন এমন অনেক গল্পই পড়েছি। কিন্তু এভাবে কারো কাছ থেকে এমন সরাসরি গল্প শোনা হৃদয়বিদারক। দয়া ও সহমর্মিতার এসকল অনন্য দৃষ্টান্তই মূলত আমাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। এ শিক্ষা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে বিপদে পড়া মানুষের জন্য ঘর এবং হৃদয় সবসময় খোলা রাখতে।
পেশাগত জীবনে আমি প্রায়ই নিজেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সব পরিস্থিতির মুখোমুখি পাই—তা আমেরিকার কোনো হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর পরিবারের সাথে আলাপচারিতাই হোক, কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে চরম নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি মানুষের নিরুপায় হয়ে টিকে থাকার লড়াই প্রত্যক্ষ করাই হোক। এই অস্থির পৃথিবীতে নিজের মানবিক সত্তাটুকু টিকিয়ে রাখাই আমার জীবনের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে; আর আমার এই মানবিকতার প্রতিটি উপাদান গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি সমাজে দশকের পর দশক ধরে প্রচলিত গল্পগুলোর মধ্য দিয়ে।
গল্প বলা এক সাহসী কাজ যা অন্যায়-অবিচারকে মুছে ফেলে স্তব্ধ করে দেয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এক সচেতন প্রতিরোধ। সামগ্রিক স্মৃতি ও আশা জাগিয়ে রাখার এক লড়াই।
বাংলাদেশি পরিবারগুলোতে এসকল গল্প টুকরো টুকরো স্মৃতির মতো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছায়। আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে তা চাপা পড়ে যায় চিরতরে। উভয়ক্ষেত্রেই শুধু স্মৃতি হারায় না, হারিয়ে যায় নৈতিক দায়বদ্ধতা। আমাদের পাশে এবং দূরে যে অবিচার আমরা প্রত্যক্ষ করছি দিনরাত, আমাদের গল্পগুলো অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে ঠিক এই মুহূর্তে আরো গুরুত্ব দিয়ে নথিবদ্ধ করা প্রয়োজন। কারণ এসকল গল্পের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষ হিসেবে যুক্ত হই একে অপরের সাথে, ভাগাভাগি করি আমাদের হৃদয়ের ক্ষত, বুঝতে পারি যে আমাদের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি।
আমরা আমাদের ইতিহাসকে এড়িয়ে যেতে পারি না, কিন্তু গল্প বলার এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেখতে পারি কীভাবে এসকল গল্প আমাদেরকে গড়ে তুলেছে, কীভাবে করবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শন, এবং কীভাবে এই বিশ্বকে শান্তির দিকে আরো এক কদম এগিয়ে নিয়ে যাবে।
[সিলেট ভয়েস-এ প্রকাশিত অভিমত, মতামত, কলাম ও চিঠিপত্র একান্তই লেখকের নিজস্ব। এতে প্রকাশিত মন্তব্য, বিশ্লেষণ বা বক্তব্য সিলেট ভয়েস-এর অবস্থান, নীতিমালা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। লেখকের উপস্থাপিত তথ্য বা বক্তব্যের দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে লেখকের নিজের।]