দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে নতুন আশাবাদে উজ্জীবিত করেছে। 


জুলাই-পরবর্তী অস্থির সময় পেরিয়ে দেশ পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে অঙ্গীকার ছিল, তার একটি সফল বাস্তবায়ন আমরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেখতে পেলাম।


ভঙ্গুর রাজনৈতিক বাস্তবতায় সকল পক্ষকে আস্থার পরিসরে এনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা সহজ কাজ ছিল না। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য রাখার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যে দৃঢ়তা দেখানো হয়েছে, তা স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। 


তবে গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি কেবল নির্বাচন-সম্পন্নতায় নয়; বরং নির্বাচনের পর ক্ষমতার প্রয়োগে কতটা সংযম, জবাবদিহি ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা যায়—সেখানেই এর সাফল্যের আসল মানদণ্ড।


নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিজয়ী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনটি চাওয়া। প্রথমটি, রাজনীতি হোক সেবার মাধ্যম: রাজনীতিকে ব্যক্তিগত আখের গোছানোর পেশা হিসেবে না দেখে নিঃস্বার্থ সমাজসেবা হিসেবে গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, জনগণের এই বিপুল সমর্থন একটি বিশাল আমানত। 


দ্বিতীয়টি, অপরাধ ও চাঁদাবাজি রোধ: অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনাদের নাম ব্যবহার করে বা দলের পরিচয় দিয়ে কেউ যেন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা কোনো ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হতে না পারে। অপরাধীর পরিচয় শুধুই অপরাধী—এ নীতিতে অটল থাকতে হবে। 



তৃতীয়টি, শতভাগ শান্তি নিশ্চিতকরণ: এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সারাদেশে শতভাগ শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদান করাই হোক আপনাদের প্রধান অঙ্গীকার।



আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই—যেখানে বৈষম্য কমবে, সুযোগের সমতা বাড়বে এবং রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছাবে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায়। উন্নয়ন হবে অংশগ্রহণমূলক, প্রশাসন হবে স্বচ্ছ, আর রাজনৈতিক সংস্কৃতি হবে সহনশীল। নতুন সংসদ ও সরকার যদি এই তিনটি ভিত্তি—সুশাসন, জবাবদিহি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন—দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে পারে, তবে ‘নতুন বাংলাদেশ’ কেবল স্লোগান হয়ে থাকবে না; এটি হবে বাস্তবতার প্রতিফলন।


আমরা একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশে বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখি। নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের এই স্বপ্নের সারথি হয়ে কাজ করবেন—এটাই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। 


  • রোটারিয়ান মোঃ চাঁন মিয়া পি পি: রোটারি ক্লাব অব সিলেট নর্থ


[সিলেট ভয়েস-এ প্রকাশিত অভিমত, মতামত, কলাম ও চিঠিপত্র একান্তই লেখকের নিজস্ব। এতে প্রকাশিত মন্তব্য, বিশ্লেষণ বা বক্তব্য সিলেট ভয়েস-এর অবস্থান, নীতিমালা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। লেখকের উপস্থাপিত তথ্য বা বক্তব্যের দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে লেখকের নিজের।]


শেয়ার করুনঃ