জগন্নাথপুরে বন্ধ বসতঘর থেকে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪৮ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে আয়োজিত র্যালিতে চা শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলা শহরের চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানি কানু বলেন, শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধন শেষে র্যালি নিয়ে ডিডিএল ও ইউএনও কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এজন্য পুলিশের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। পরে চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনের সড়কের বিপরীত পাশ দিয়ে র্যালি যাওয়ার সময় হামলা করা হয়।
তিনি বলেন, শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন। এর আগেও একবার আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।
গীতা রানি বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দাবি করা যদি আমাদের অপরাধ হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আরেক চা শ্রমিক নেতা আকাশ দোষাদ বলেন, প্রথমে চা শ্রমিক নেতা দুলাল হাজরা আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি ও নেতা সুবাস রবিদাস আন্দোলনকারীদের ধরে ইউনিয়নের গেটে নিয়ে যান। সেখানে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, সুমন হাজরা ও সুমন তাঁতীসহ কয়েকজন আমাদের মারধর করেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। সেখানে পুলিশ থাকলেও আমাদের রক্ষা করেনি।
আকাশ দোষাদ বলেন, হামলায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জনকলাল দেশোয়ারা, রাধামোহন নুনিয়া ও গীতা রানী কানুকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবি করায় মালিকপক্ষের চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের একটি অংশ আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি ডেইলি স্টারকে বলেন, মানববন্ধন শেষে একটি পক্ষ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও গালিগালাজ করে। ওই সময় আমরা ভবনের ওপরের তলায় একটি কর্মসূচিতে ছিলাম। পরে আমার নিচে নামলে তারা পালিয়ে যায়।
তবে কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে, একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চা শ্রমিক নেতাদের কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে আন্দোলনকারীদের ধরেন। এ সময় তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলতে ও কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা গেছে।
ভিডিওতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা যায়। তবে ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গীতা রানীসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তারা লেবার অফিসের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের সামনে আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে কি না, কিংবা পুলিশ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল দল রয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
চা শ্রমিক, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রীমঙ্গল, আন্দোলন, মারধর, শ্রমিক ইউনিয়ন