খলিলুর-হুমায়ুনের বিদেশি নাগরিকত্ব ও আনুগত্য যাচাইয়ের দাবিতে আইনি নোটিশ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:২৯ অপরাহ্ন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি পাসপোর্ট এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে নোটিশটি পাঠানো হয়।
আইনজীবী আসলাম মিয়া বলেন, ‘সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব না পেলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাওয়া হবে।’
নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্বের ইতিহাস, বিদেশি পাসপোর্ট ধারণের তথ্য এবং বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি কোনো আনুগত্যের ঘোষণা বা শপথ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের নিয়োগ ও শপথ গ্রহণ সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফশিলের বিধান তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা, বিদেশি নাগরিকত্ব বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের কারণে অযোগ্যতার বিষয় এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে শপথের সাংবিধানিক বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক এবং ২৫ বছর বয়স পূর্ণ হয়েছে, এমন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। আর ৬৬(২)(গ) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা সদস্য থাকার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে একই অনুচ্ছেদের ৬৬(২এ)-তে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তা ত্যাগ করার পর তার সাংবিধানিক অবস্থান সম্পর্কে বিশেষ বিধান রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্বের অতীত ও বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
নোটিশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিষয়ে তার বর্তমান বাংলাদেশি নাগরিকত্বের অবস্থান, অতীতে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন কি না, বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন বা করছেন কি না এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কি না, এসব তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা কখন ত্যাগ করেছেন, সেই তথ্যও পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
একই ধরনের তথ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ক্ষেত্রেও যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
এজন্য তাদের নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন, জাতীয়তা এবং নাগরিকত্ব গ্রহণ বা ত্যাগসংক্রান্ত সরকারি নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণ সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফশিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, যাচাইয়ে কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অযোগ্যতা পাওয়া না গেলে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি জানাতে হবে।
আইনজীবী আসলাম মিয়া বলেন, ‘এটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা সিদ্ধান্ত নয়। নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করাই এই নোটিশের উদ্দেশ্য।’
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সাতদিনের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে অথবা সাংবিধানিক প্রশ্ন অনিষ্পন্ন থাকলে আইন অনুযায়ী প্রতিকার পেতে উপযুক্ত সাংবিধানিক বা বিচারিক ফোরামের আশ্রয় নেওয়া হবে।
খলিলুর রহমান, হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিদেশি নাগরিকত্ব, আইনি নোটিশ, সংবিধান, নাগরিকত্ব যাচাই