০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটজুড়ে

সীমান্তে নজরদারিতে থার্মাল ড্রোন, নিজস্ব ড্রোন তৈরির উদ্যোগ বিজিবির: সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:২২ অপরাহ্ন


সীমান্তের দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এলাকাগুলোতে থার্মাল ইমেজিং ও নাইট-ভিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে।


মঙ্গলবার সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম ও ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনীও দেখেন তিনি।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ একটি অনন্য ঘটনা। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।


সীমান্তে নজরদারির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা সম্ভব নয় অথবা খুবই কঠিন, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর পারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।


তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারসহ আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হবে।


বিজিবির জন্য নিজেদের ড্রোন তৈরি ও অ্যাসেম্বল করার উদ্যোগের কথাও জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সেটা আমাদের জন্য একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’


তিনি বলেন, ড্রোন ও ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে।


দুর্যোগকালেও ড্রোন ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো ও উদ্ধার কার্যক্রমেও ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের কাজে বিজিবির সদস্যরা ইতিমধ্যে ড্রোন ব্যবহার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রদর্শিত বিভিন্ন আধুনিক ড্রোনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্বের আধুনিক বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের কিছু এখানে রয়েছে। সবগুলো এখনো অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ড্রোনগুলোর সমাহার এখানে করার চেষ্টা করা হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত বাহিনীর সদস্যদের জন্য পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ অনুযায়ী বেসামরিক জনগণকেও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।


প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য এই সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।


শেয়ার করুনঃ

সিলেটজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

সীমান্ত নজরদারি, থার্মাল ড্রোন, বিজিবি, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড্রোন ওয়ারফেয়ার, সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান, মাদক পাচার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ