০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বে সমন্বয়হীনতার শঙ্কা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:১০ অপরাহ্ন


জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় কোনো সমন্বয়হীনতা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার মতে, এই দায়িত্ব বণ্টন দলের সাংগঠনিক অবস্থানকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার এবং দলীয় শক্তির বিন্যাসে নতুন উদ্যম তৈরি করবে।


আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরের কাজিরবাজারে নিজ বাসায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।


সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর সিলেট জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন হবিগঞ্জের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ।


জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে উচ্চ আদালতের রায়ে অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘জেলা মন্ত্রী’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ ব্যবস্থায় সমন্বয়হীনতার আশঙ্কার কথাও কেউ কেউ বলেছেন। উদ্যোগটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন সংসদ সদস্য হাইকোর্টে রিট করেছেন।


এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘এটি সমন্বয়হীনতা তো করবেই না, বরং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানটাকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জায়গায় দেখার, যাচাই করার, দলীয় শক্তির বিন্যাসের জন্য নতুন উদ্যম সংযোজন করবে।’


তিনি বলেন, ‘যে যেখানে কাজ করবেন, তারাই দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দল একটা পরিকল্পনা, কৌশল সামনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছে।’


দেশের আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানি বেশি এবং রপ্তানি কম। এর অন্যতম কারণ, দেশে শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল উৎপাদিত হয় না। ফলে এসব কাঁচামালের জন্য বাংলাদেশকে বাইরের বিশ্বের ওপর নির্ভর করতে হয়।


মুক্তাদির বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। তবে চালে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আগে যেসব কৃষিপণ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই ইতিমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে।


তিনি জানান, আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানো সহজ কোনো বিষয় নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি; আবার কিছু দেশে রপ্তানি বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আনা এবং রপ্তানির নতুন খাত চিহ্নিত করে সেগুলো সম্প্রসারণের ওপর জোর দিতে হবে।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এসব বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এর ফলাফল ও সুফল সামনে পাওয়া যাবে।’


বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, এখন উদযাপনের সময় নেই; সামনে দেশ গঠনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।


তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য জ্বালানি-সংকটসহ বিভিন্ন লজিস্টিক সমস্যা ও বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা দূর করে দেশে-বিদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে হবে।


শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।


কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ