০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটজুড়ে

সিলেটে মাদক মামলায় খালাসের হার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:৩২ অপরাহ্ন


সিলেটে মাদক মামলায় আসামিদের খালাস পাওয়ার পেছনে মামলার আধিক্য, তদন্ত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত জনবল না থাকা এবং পুরোনো আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা দায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


মঙ্গলবার সিলেটে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


সিলেটে গত দেড় বছরে ১৮১টি মাদক মামলার রায় হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন, সাংবাদিকদের এমন তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসব মামলা সম্ভবত পুরোনো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হয়েছিল। ওই আইনে মাদক মামলার জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা ছিল না।


তিনি বলেন, এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতগুলোতে মাদক মামলার সংখ্যা অনেক বেশি। ঢাকায় প্রায় ৮০০ এবং সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার মাদক মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চট্টগ্রামেও কয়েক শ মাদক মামলা রয়েছে। এত মামলার তুলনায় তদন্ত করার মতো জনবল ও সক্ষমতা পর্যাপ্ত ছিল না বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের ব্যবস্থায় মাদক মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরিরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। মাদক কেনাবেচায় সাইবার স্পেসের ব্যবহারসহ নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলার বিষয়ও আইনে রাখা হয়েছে।


প্রতিটি জেলায় মালখানা ও হাজতখানা স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ডগ স্কোয়াড যুক্ত করার বিষয়টিও আইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেই ধরনের অস্ত্রের ব্যবস্থা ছিল না। নতুন ব্যবস্থায় তাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে বিজিবি সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়াও সহজ হবে।


সিলেটের মামলাগুলোতে আসামিদের খালাস পাওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মামলার আধিক্যের কারণে আসামিরা হয়তো আইনি সুযোগ পেয়েছেন। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।


তিনি বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা, আইনের কাঠামো আমরা খুব শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলছি। পরে জনবল এবং প্রযুক্তিগত সমস্ত সহায়তা আমাদের বাহিনীকে দেওয়া হবে। সমস্ত অধিদপ্তরকে দেওয়া হবে। আশা করি এগুলো নিয়ন্ত্রণে আসবে।’


শেয়ার করুনঃ

সিলেটজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

সিলেটে মাদক মামলা, মাদক মামলায় খালাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, সিলেট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ