জগন্নাথপুরে বিদ্যালয়ের সংস্কারকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শতবর্ষী স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯ লাখ টাকার মেরামত ও সংস্কারকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শিডিউল বা প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তীব্র আপত্তির মুখে সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ভেতরের প্রায় ১০ ফুট চওড়া সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। শিডিউল অনুযায়ী সেখানে ৫ ইঞ্চি পুরু ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, রড ছাড়াই মাত্র ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি পুরু ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। এ ছাড়া জমাটবদ্ধ নষ্ট সিমেন্ট, অতিরিক্ত বালু ও পর্যাপ্ত কংক্রিট ছাড়া কাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার বিষয়টি তাঁরা সংশ্লিষ্টদের জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী ভানু দাস ও ঠিকাদার নজরুল ইসলাম দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের অধীন ‘সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মেরামত ও সংস্কার’ প্রকল্পের আওতায় ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ই-জিপি প্রক্রিয়ায় কাজটি পায় ‘মেসার্স স্মার্ট এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ভবনের মেঝেতে পেটেন্ট স্টোন, আরসিসি ঢালাই, রং করা, বারান্দায় গ্রিল স্থাপনসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করার কথা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহিবুর রহমান, ফারুক মিয়া ও মঈন উদ্দিনসহ অন্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারবার সতর্ক করার পরও অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর যোগসাজশেই এই অনিয়মের মহোৎসব ঘটেছে।
কোনো অবস্থাতেই এই অনিয়ম মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তারা অবিলম্বে এই নিম্নমানের ঢালাই পুরো ভেঙে সিডিউল মেনে নতুন করে ঢালাই কাজ করার দাবি জানান।
একই সাথে এ ঘটনার দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বরখাস্তসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মী সানোয়ার হাসান সুনু বলেন, এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করার মতো না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সিডিউল অনুযায়ী স্বচ্ছ ও গুণগত মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন সমাজ কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেন ওই গণমাধ্যমকর্মী।
এ ব্যাপারে জানতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে আমি বিদ্যালয়ে আসার আগেই তড়িঘড়ি করে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। এসে দেখতে পাই নকশা অনুযায়ী ঢালাইয়ের ৫ ইঞ্চি উচ্চতা নেই এবং গুণগত মানও মানা হয়নি। এমনকি বস্তায় জমাট বাঁধা নষ্ট সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবির সাথে একমত পোষণ করে তিনি জানান, অনিয়ম হওয়া অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে নতুন করে ৫ ইঞ্চি ঢালাই নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কাজ শুরু করতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ শিক্ষা ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক জহিরুল হক জানান, শিডিউল অনুযায়ী অবশ্যই ৫ ইঞ্চি ঢালাই হতে হবে। অনিয়ম ও গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জগন্নাথপুর, স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সংস্কারকাজ, অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর