
ভারতের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে আগুনে নিহত নয়জনের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। নিহত দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান দেবাশীষ ও তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভারতে যান। দেবাশীষের স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন। তাদের সন্তানেরও স্পিচ সমস্যা ছিল। আকরাম হোসেন আগে থেকেই কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। দেবাশীষ, তার স্ত্রী ও সন্তান বেঙ্গালুরুতে ছিলেন। গতকাল তারা আকরামের সঙ্গে দেখা করতে কলকাতায় ফেরেন।
আগুনের খবর পাওয়ার পর দেবাশীষের ভগ্নিপতি কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান মাহবুব রহমান।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের একটি আবাসিক হোটেলে গত রাতে আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে আগুন লাগে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দমকলকর্মীরা ভবনটি থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। আহত ব্যক্তিদের কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কলকাতার একটি স্থানীয় জনকল্যাণ সমিতির সদস্য মহিশুর জানান, আগুনে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় সন্দীপ পাসোয়ান (১৯) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা।
মহিশুর আরও জানান, নিহতদের মধ্যে ঢাকার সাভারের দুই বছর বয়সী শিশু আহমেদ বাবুও রয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কলকাতার স্থানীয় পুলিশ পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাঁদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য। নিহত অন্য বাংলাদেশিদের পরিচয় এখনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
কলকাতা হোটেলে আগুন, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড, হোটেলে আগুন, বাংলাদেশি নিহত, পাঁচ বাংলাদেশি নিহত, দেবাশীষ দত্ত, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক, কলকাতা, মির্জা গালিব স্ট্রিট, নিউ মার্কেট, বাংলাদেশ উপহাইকমিশন

