১৯ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না সুনামগঞ্জের ডিসি, দায়িত্ব দিলেন চার এডিসিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৪৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের বিভিন্ন সেবা, তথ্য প্রদান, অভিযোগ গ্রহণ, পরামর্শ দেওয়া এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দিবেন না জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। বুধবার (১৯ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এসকল সেবার নেয়া ও বক্তব্যের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে চার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে। তবে জেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নিয়ে সুনামগঞ্জের সাংবাদিকদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়ার সুযোগ কী আগের মতো থাকবে? আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সিদ্ধান্তটিকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।


অফিস আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা, চোরাচালান রোধ, বর্ডার হাট, মোবাইল কোর্ট, টাস্কফোর্স অভিযান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ।


জলমহাল ও বালুমহাল ইজারা, ভূমি উন্নয়ন কর, রাজস্ব আদায়, নামজারি ও নামজারি রিভিউসহ ভূমি-সংক্রান্ত তথ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলকে।


জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত সেবা, আইসিটি, শিল্পকলা ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান।


অন্যদিকে জাতীয় ও বিভিন্ন দিবস আয়োজন, বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রম বিষয়ক প্রত্যয়ন, সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয় এবং অন্যান্য তথ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খানকে।


আদেশে প্রত্যেক কর্মকর্তার মুঠোফোন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।


এদিকে জেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুনামগঞ্জে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক। সাংবাদিকদের এসব মন্তব্যের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের সরাসরি বক্তব্য ও যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা জেলার বড় কোনো ঘটনায় গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রয়োজন হলে এ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে।


একাত্তর টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক শহীদনূর আহমদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, একটু জানার ইচ্ছে ডিসির কাছে নাগরিক বা গণমাধ্যম কোন কোন কাজে যেতো পারবেন।


স্টার নিউজের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি আমির মাহবুব লিখেছেন, বিয়ের দাওয়াত, কুলখানি, জানাজার নামাজ, সুন্নতে খৎনার অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেয়া যেতে পারে। এছাড়া উনার আর কোন কোন কাজ আছে তা জানা নেই।


মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি এমএ রাজ্জাক স্বাধীন লিখেছেন, মনে হচ্ছে সুনামগঞ্জের ভেতরে আরেকটা সুনামগঞ্জ। এখন থেকে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম চলবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দিয়ে। গণমাধ্যম থেকে আপাতত জেলা প্রশাসক বিশ্রাম নিয়েছেন।


এ বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।


এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমান বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আগে বিষয়টা জানি তারপর এটা নিয়ে কথা বলতে পারব। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক কোন বিধিনিষেধ দেওয়া হয়নি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

জেলা প্রশাসন, ডিসি, গণমাধ্যম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, দায়িত্ব, সাংবাদিক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ