২১ জুলাই ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / জুলাই গণঅভ্যুত্থান

ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান

২০ জুলাই: মেসে মেসে চলে পুলিশের তল্লাশী, অশ্রুজলে সাংবাদিক তুরাবের বিদায়

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২০ জুলাই, ২০২৬ ১:৫১ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস গ্রাফিক্স

২০২৪ সালের ২০ জুলাই। দিন ছিল শনিবার। আগের দিনের শুক্রবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, দেশজুড়ে কারফিউ জারি ও সাংবাদিক তুরাবের মৃত্যু-সবমিলিয়ে আতঙ্কের নগরী ছিল সিলেট। নানা গুঞ্জন ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের। 

 

এদিন সন্ধ্যা নামলে শুরু হয় আরেক আতঙ্ক। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের মেসে মেসে শুরু হয় পুলিশের তল্লাশী। চলে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি। ভয়ে বাসা-বাড়ি থেকে বের হননি সাধারণ মানুষও। 

 

১৯ জুলাই রাতভর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন মহলে সরকারপ্রধানের দেশত্যাগ কিংবা সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের মতো নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে সকাল গড়াতেই সিলেটের পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত হয়ে আসে।

 

কারফিউ কার্যকর থাকলেও দিনের প্রথম ভাগে নগরীর সড়কে সেনাবাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েনি। ফলে অনেক দোকানপাট খুলে যায় এবং মানুষের চলাচলও ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত কারফিউ সাময়িক শিথিল করা হলে নগরীর বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। তবে এদিন সকাল থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

অপরদিকে, আগেরদিন (১৯ জুলাই) পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের মরদেহ এদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে মানিক পীর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজার জন্য নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সহকর্মীদের উপস্থিতিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ।

 

তুরাবের জানাজায় সিলেটের শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। কারফিউ শিথিল থাকার সুযোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ সিলেট প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়, যেখানে সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

 

দুপুর ২টায় কারফিউ পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর নগরীতে সেনাবাহিনীর টহল দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশও অবস্থান নেয়। বিকেলে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভের উদ্দেশ্যে লোকসমাগমের চেষ্টা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে সেসব উদ্যোগ সফল হয়নি।

 

রাতের দিকে আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজ করা হয়। একই সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্ন দিকে নেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্তত পাঁচজন নেতাকে আটক করা হয়।


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

জুলাই গণ অভ্যূত্থান, সিলেট, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারফিউ, মেসে তল্লাশী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ