২১ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন

জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন চয়ন, তবুও থেমে নেই স্বপ্ন

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২০ জুলাই, ২০২৬ ৮:৩২ অপরাহ্ন

ছবিঃ শ্রুতি লেখন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় ডিগ্রি শেষপর্বের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন চয়ন।

জন্ম থেকেই দুই চোখে দেখতে পান না চয়ন তালুকদার। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা তার শিক্ষাজীবনের পথ রুদ্ধ করতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিবারের সহযোগিতায় এবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের (ফাইনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন চয়ন। 

 

রোববার (১৯ জুলাই) জগন্নাথপুরের আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শ্রুতি লেখন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নেন চয়ন। তিনি জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের নিতাই তালুকদারের ছেলে।

 

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি চয়নের প্রবল আগ্রহ ছিল। দৃষ্টিশক্তি না থাকায় শুরুতে লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে সমবয়সী ছোট বোনকে পড়তে বসতে দেখলে পাশে বসে শুনে শুনে পড়া আয়ত্ত করতেন তিনি। 

 

স্বজনরা জানান, পড়া আয়ত্তের পর চয়ন সেই পড়া অন্য কাউকে বলতেন এবং তিনি লিখে দিতেন। এভাবেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডিগ্রিতে ভর্তি হন।

 

চয়ন বলেন, ‘পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ থাকার পরও দৃষ্টিশক্তি না থাকায় আমার পড়ালেখা প্রায় অনিশ্চিত ছিল। সমবয়সী ছোট বোনের সহযোগিতায় আমি এত দূর আসতে পেরেছি।’ 

 

তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শ্রুতি লেখনপদ্ধতিতে আমি এবার ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আমাকে শ্রুতি লেখনে সহায়তা করছে আমার বন্ধু জাহেদ মিয়া। তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন তার আরেক বন্ধু মাজহারুল ইসলাম।

 

বন্ধু জাহেদ মিয়া বলেন, ‘চয়ন বলে দেয়, আমি শুধু খাতায় লিখে দিই। এতে আমাদের কোনো অসুবিধা হয় না। সে পড়াশোনায় ভালো। তাকে সহযোগিতা করতে আমারও ভালো লাগে।’

 

চয়নের বাবা নিতাই তালুকদার বলেন, ‘জন্মগতভাবেই চয়নের দুই চোখ অন্ধ। তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তার আগ্রহ ছিল। ভাইবোন মিলে একসঙ্গে পড়ালেখা করে এবার দুজন ডিগ্রি পরীক্ষা দিচ্ছে। অভাব-অনটনের কারণে ঠিকমতো তাদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে পারছি না। তবুও তাদের স্বপ্ন পূরণে চেষ্ঠা করে যাচ্ছি।’

 

জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সুরঞ্জিত কুমার সেন বলেন, ‘চয়নকে শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখনের অনুমতি এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তার সফলতা কামনা করছি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

চয়ন তালুকদার, জগন্নাথপুর, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, ডিগ্রি পরীক্ষা, শ্রুতি লেখন পদ্ধতি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ