‘মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখতে চাই’-শহীদ তুরাবের মা, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় স্ত্রী
সংগ্রাম-স্বাধীনতা
প্রকাশঃ ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৪৩ অপরাহ্ন
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। দিনটি ছিল শুক্রবার। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সারা দেশের মতো সিলেটেও ছিল চরম উত্তেজনা। আগের দিন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুদ্র সেন নিহত হওয়ার পর ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সিলেটের সকল আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রস্থল সিলেট কোর্ট পয়েন্টের দিকে নজর ছিল সবার। জুমার নামাজের আগে থেকেই কোর্টপয়েন্ট এলাকায় অবস্থান বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সেই শঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হলো। জুমার নামাজের পরপরই কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনায় ১৯ জুলাই সিলেটের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও বেদনাবিধুর দিন হিসেবে স্থান করে নেয়।
১৯ জুলাই সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি বিকল্প পথ দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে নগরীতেও। জুমার নামাজের পর বন্দরবাজার এলাকায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নেন। কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মিছিলটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে পুলিশ গুলি ছোড়ে। ওই সময় সড়কের মাঝের আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে আলোকচিত্র ধারণ করছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের মো. তুরাব। তার পরনে ‘প্রেস’ লেখা ভেস্ট ছিল। গুলিতে গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সন্ধ্যায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে জানা যায়, তার শরীরে ৯৮টি ছররা গুলির চিহ্ন ছিল।
এদিকে দুপুরের পর থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। আখালিয়া থেকে পাঠানটুলা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যুক্ত হন।
বিকেল ৪টার পর সংঘর্ষের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দ। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হন। এরই মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ।
রাত ১১টার দিকে সরকার সারা দেশে কারফিউ জারি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। কিছুক্ষণ পর সিলেটে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে।
জুলাই গণঅভ্যূত্থান, শহীদ তুরাব, রুদ্র সেন, শাবিপ্রবি

ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান
