বিশ্বনাথে কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা সংকট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ৫:৪৩ অপরাহ্ন
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নিরঙ্কুশ বিজয়ের জোয়ার দেখে একটা পক্ষ নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই পরিষদের প্রার্থীরা। অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তা না হলে আন্দোলনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সিলেট চেম্বার নির্বাচন স্থগিতের পর নগরীর দরগা গেইটস্থ একটি হোটেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ফাহিম আহমদ চৌধুরী।
এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা পক্ষ সিলেট চেম্বারের নির্বাচন চায় না। তারা সব সময়ই বিশৃঙ্খলা করে যাচ্ছে। এরাই জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের লোক দিয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে সিলেটের সকল ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদে মাঠে নামবে।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকার মধ্যে ৪২জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। পরে অভিযুক্ত ভোটার ও অভিযোগকারীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন বসেন। কয়েক দফায় যাচাই-বাছাই করার পর অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাখা হয়। তাহলে এখন কেনো ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে। এটা চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্যানেলের দুইজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু কেন প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে তার কোনো দালিলিক প্রমাণ আমাদের হাতে দেওয়া হয়নি।
ফাহিম আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে তারা জানেন না। অথচও তাদের সমন্বয়কনও যারা পেছনে থেকে নির্বাচনের কাজ করছেন তারাই আবেদন দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করেছেন। নির্বাচনে আমাদের নিরঙ্কুশ বিজয় হবে বুঝতে পেরে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন স্থগিতের আদেশের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা বলছেন-তারা এটা জানেন না। আজ বিয়ানীবাজারে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন আমার নির্বাচন স্থগিত করেছি। অথচ যারা নির্বাচন বানচাল করতে আবেদন দিয়েছে তারা হচ্ছে অপর প্যানেলের সমন্বয়ক। কিন্তু তারা মুখে এক কথা বলে অন্তরে ভিন্ন কিছু রেখে অভিনয় করছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেট চেম্বারের বর্তমান প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আপিল বিভাগ সম্পূর্ন ব্যর্থ উল্লেখ করে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন-আমরা কোনো রাজনৈতিক নেতা নয়। কিন্তু নির্বাচন না হলে আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবো।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-চেম্বার নির্বাচনে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী হুমায়ূন আহমেদ, সহসভাপতি মাসুম ইফতিখার রসুল সিহাব।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি ফয়েজ হাসান ফেরদৌস, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ, আতিক হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সাবেক পরিচালক হাফিজুর রহমান, ভোলাগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বশির আহমদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম, ব্যবসায়ী আক্তার চৌধুরী রুবেল, লিবন আহমদ, হাসান কবির ও সকল পরিচালক প্রার্থীরা।
এর আগে আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন–১ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বোর্ডকে জানানো হয়।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, সদস্যপদ যাচাই–বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগের কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর দি সিলেট চেম্বারের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন যাচাইসহ নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। নির্বাচনে দুটি প্যানেল সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম থেকে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
নিরঙ্কুশ, বিজয়, নির্বাচন, স্থগিত, অভিযোগ, সম্মিলিত, ব্যবসায়ী, পরিষদ, চেম্বার, সিলেট