২৬ মে ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

কোরবানির চামড়া সংগ্রহে বিশেষ উদ্যোগ

চামড়া দ্রুত বিক্রির আহ্বান ডিসির, বিক্রি না হলে সংগ্রহ করবে প্রশাসন

চামড়া পৌঁছে দিলে গ্রহণ করবে কওমি মাদ্রাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৬ মে, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ন


কোরবানির পশুর চামড়া দ্রুত বিক্রির আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পারলে জেলা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সেই চামড়া সংগ্রহ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন এই জাতীয় সম্পদ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।


মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।


জেলা প্রশাসক জানান, এবার সিলেট জেলায় কোরবানির পশুর প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ হাজার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে সহায়তার জন্য সরকারিভাবে ৩৪৫ টন লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ কিংবা পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশে কোরবানি না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিলেট সিটি করপোরেশনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোরবানি শেষে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।


এদিকে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন ‘কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ’, জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে সেখান থেকে সরে এসেছে সংগঠনটি।


সোমবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংগঠনটির সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান বলেন, জেলা প্রশাসন সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রির আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি চামড়া পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে। সে কারণে তারা আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন।


তবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেক মাদ্রাসায় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে গেছে। এতে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। তাই নগরবাসীকে নিজ উদ্যোগে নিকটস্থ মাদ্রাসায় দানের চামড়া পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।


এর আগে গত ১১ মে সংবাদ সম্মেলন করে কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ অভিযোগ করেছিল, চামড়ার ন্যায্যমূল্য না থাকায় বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে মাদ্রাসাগুলোকে। পরিবহন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে দাবি করে তারা। সংগঠনটির নেতারা বলেন, চামড়া শিল্পে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভাঙা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে কওমি মাদ্রাসাগুলোর অন্যতম আয়ের উৎস প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট চামড়া সংগ্রহ, কোরবানির চামড়া, জেলা প্রশাসক, চামড়া শিল্প

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ