বিশ্বনাথে কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা সংকট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ২৫ মে, ২০২৬ ৬:০০ অপরাহ্ন
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা বিশ্বনাথে কোরবানির পশুর হাটে গরু ও ছাগলের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। এতে হাটগুলোতে বিক্রেতার ভিড় বাড়লেও বেচাকেনায় গতি আসছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। এতে করে দুশ্চিন্তায় পরেছে বিক্রেতারা।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে পৌর শহরের বাসিয়া নদীর পাড় সংলগ্ন পশুর হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত গরু নিয়ে বিক্রেতারা এলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। এতে হাটে এক ধরনের ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান অনেকে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ এবং বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও দামের ক্ষেত্রে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। বরং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে দাম হাঁকা হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বাজারে ‘সিন্ডিকেট প্রভাব’ থাকারও অভিযোগ করছেন।
এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবেও প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় কোরবানির প্রস্তুতিতে চাপ পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রবাসীদের অনেকেই আগের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠাতে না পারায় কোরবানির পশু কেনায় টান পড়েছে।
হাটে কথা হয় নতুনবাজার এলাকার মাওলানা শরিফ আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। গরু থাকলেও ক্রেতা অনুযায়ী দাম মিলছে না।’
অন্যদিকে বিক্রেতা শরিষপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়া জানান, তিনি এবার ২১টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। তার ভাষ্যে, ‘প্রতি গরু ৬৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি হলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’
হাটের নিরাপত্তা বিষয়ে কথা হয় বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ‘হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল চলছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস শহীদ জানান, এবছর উপজেলায় কোরবানির জন্য ৮ হাজার ১৩৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৫২টি ষাঁড়, ১ হাজার ৫৭৪টি বলদ, ২৬৭টি গাভী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়মিত টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামার পর্যায়ে প্রস্তুতি ভালো থাকলেও বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রিতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু কেনাবেচা বাড়ায় স্থানীয় হাটের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
ঈদুল আজহা, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা, বিশ্বনাথ, কোরবানির পশু