ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিলেটের শিল্পকারখানায় কমছে উৎপাদন, লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৪১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নেও সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস এসব বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের পাশাপাশি বন্দর, কাস্টমস, লজিস্টিকস এবং এমএসএমই খাত নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়ছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় পরিবেশগত ও সামাজিক মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশে ব্যবসা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি লজিস্টিকস ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৈঠকে এ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ কমানো গেলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্যও বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ইউএনডিপি।
দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকার কথাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিষয়ে ইউএনডিপির সহযোগিতা চান বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ‘ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।’
কাস্টমস ও বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়েও সহযোগিতার কথা জানিয়ে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ‘কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আগ্রহী ইউএনডিপি।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে।’
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনডিপি, বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয়, এমএসএমই, রপ্তানি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বাণিজ্য চুক্তি