দিরাইয়ে গোচারণভুমি দখল নিয়ে বিরোধে আহত ২, থানায় অভিযোগ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০৬ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাও গ্রামের প্রায় ২০ একরের একটি গোচারণ ভূমি দখল চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) আহত একজন দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে অবৈধভাবে জমি দখল বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
আহতরা হলেন, উপজেলার কিত্তাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নির্মল তালুকদার (৫৯) ও একই গ্রামের মনোরঞ্জন তালুকদার (৫০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রামের সংলগ্ন নয়াগাঁও মৌজার জেএল নম্বর ১০-এর ৩ নং দাগের প্রায় ২০ একর পতিত জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন খেলার মাঠ, গোচারণ ভূমি ও কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছেন। বর্তমানে জমিটি বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট ২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ভিটবালু বোঝাই স্টিলের নৌকা, পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে বালু দিয়ে ভরাটের প্রস্তুতি নেন। এ সময় নির্মল তালুকদারসহ স্থানীয় লোকজন এতে আপত্তি জানান। পরে বালু ভরাটের কাজ বন্ধ করে নৌকা ও সরঞ্জাম নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং সময়-সুযোগমতো দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ২২ আগস্ট ২টার দিকে বাংলাবাজার এলাকায় নির্মল তালুকদার ও মনোরঞ্জন তালুকদারকে দলবদ্ধভাবে হামলা করা হয়। হামলায় লোহার রড, কাঠের রোল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের মারধরে তারা আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
কিত্তাগাও গ্রামের বাদিন্দা পলাশ তালুকদার জানান, প্রায় ১০০ বছর ধরে গ্রামের গোচারণ ভূমি,খেলার মাঠ কৃষি কাজে ব্যবহৃদ হিসাবে আমরা এই জায়গাটা ভোগদখলে রয়েছি। গত শুক্রবার রফিনগর গ্রামের কয়েকজন প্রায় ৩ কিঃমিঃ দুর থেকে এসে নৌকা ভর্তি ভিটে বালু নিয়ে ভূমিটি জোরদখলে নিতে আসে।
তিনি বলেন, গ্রামবাসী বাঁধা দিলে তারা চলে যায়। এবং যাওয়ার সময় হুমকি দেয়। পরে বাংলাবাজারে আমাদের গ্রামের লোকজন কে পেয়ে মারধর তারা মারধর করে। প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের নুর হামিদ। তিনি বলেন, জায়গাটি খাস নয়। আমরা ২০১২ সালে ভাটিপাড়ার জমিদার বাড়ির বংশধরদের কাছ থেকে জমিটি কিনেছি।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
গোচারণ ভূমি, জমি দখল, বিরোধ, হামলা, দিরাই, রফিনগর