ফের ভাঙল খোয়াই নদীর বাঁধ, অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৩২ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এতে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলের জমি তলিয়ে যায়।
এ অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে, গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। তখন মাছের ঘের, ফসলের জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। তবে কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ১১ টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্রবল বেগে আসা পানির চাপে খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে দ্রুত বেগে লোকালয়ে ঢুকছে পানি।
স্থানীয়রা জানান, বিকেল পর্যন্ত সুঘর, চরহামুয়া, বনগাও, আদ্যপাশসহ কয়েকটি গ্রামের রাস্তা-ঘাট ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। রাতেই মধ্যে অন্তত্ব ২০/২৫টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বাসা বাড়ি থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে রাখছেন। অনেকে আবার নিজ বাসস্থান ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা উচু কোনো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
এদিকে, গত ৯ জুলাই বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ৮২ লাখ টাকা মেরামতের কাজ শুরু করে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দীর্ঘ ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের কারণেই নদীতে পানি আসা মাত্রই বাঁধটি পুনরায় ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে আশেপাশের অন্তত ৫০টি গ্রাম তলিয়ে চরম ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘সঠিক সময়ে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের দ্বিতীয় বার ভাঙ্গনের কবলে পড়তে হয়েছে। বাড়ির চারপাশের হাওরের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা।’
চরহামুয়ার আব্দুল হক বলেন, ‘মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙ্গে গেল। গত বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল সেটি তারা এখনো পুষিতে উঠতে পারেননি।’
বনগাও গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, ‘বাঁধ মেরামতের কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে। তা না হলে বাঁধ মেরামতের এতোদিন লাগার কথা নয়। বাঁধ ভেঙ্গে যাওযায় সকলের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। অনেকেই বাসা-বাড়ি ছাড়তে শুরু করেছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঁধ পরিদর্শন করেছি। ভারতের ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারনে উচ্চ বেগে পানি প্রবেশ করেছে। যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাধঁটি ভেঙ্গে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে।’
কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোন অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত সময়ে করার চেষ্টা করেছি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে বর্ষার মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’
খোয়াই নদী, নদীর বাঁধ, গ্রাম প্লাবিত, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফসলের জমি, পাহাড়ি ঢল