২৩ আগস্ট ২০২৬

সিলেটজুড়ে

বৈঠার ছন্দে বিদায়ের সুর, সুনাই নদীতে শেষ নৌকাবাইচ ২৮ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৩৪ অপরাহ্ন


সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে এবারও বসছে নৌকাবাইচের আসর। আগামী ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত সময়েই নদীতে নামবে প্রতিযোগিতার নৌকা। তবে স্থানীয়ভাবে হওয়া সমঝোতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ আয়োজনই হতে পারে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচের শেষ অধ্যায়। আগামী বছর থেকে সেখানে আর এ প্রতিযোগিতা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


নৌকাবাইচ আয়োজনকে ঘিরে সম্প্রতি এলাকায় যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তা মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাতের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বারইগ্রাম বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নিচতলায়। এতে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যুবক, প্রবীণ, জনপ্রতিনিধি ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন। নৌকাবাইচ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ, স্থানীয় মানুষের অবস্থান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর বিষয়ে সেখানে দীর্ঘ আলোচনা হয়।


স্থানীয়রা জানান, সুনাই নদীর নৌকাবাইচ লাউতা ইউনিয়নের মানুষের কাছে পুরোনো একটি ঐতিহ্য। প্রতিবছর নৌকার প্রতিযোগিতা ঘিরে নদীর দুই পাড়ে মানুষের ভিড় হয়। বৈঠার ছন্দ, নৌকার গতি আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। তাই এই আয়োজনকে ঘিরে কোনো বিরোধ তৈরি হোক, তা চান না স্থানীয়রা।


আলোচনার পর এ বছর নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে আর নৌকাবাইচ না করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।


লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় শান্তি ও সম্প্রীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছানো হয়েছে। আয়োজক সংগঠন বাহাদুর গাংপার যুব সমাজ এ বছর প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের সুযোগ চেয়েছে। তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী বছর থেকে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ না করার বিষয়ে তারা সম্মতি জানিয়েছে।


নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ২৮ আগস্ট নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ হবে। আয়োজন নিয়ে এখন প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে।’


তবে সমঝোতা বৈঠকে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হক কাসেমি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হোসেন আহমদ।


বিষয়টি নিয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, নৌকাবাইচ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে আগামী বছর থেকে নৌকাবাইচ বন্ধ রাখার শর্তে সমঝোতা হয়েছে এমন তথ্য তার জানা নেই।


নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে থাকা মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, মাওলানা আব্দুল হক কাসেমি ও হোসেন আহমদের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।


সব মিলিয়ে আগামী ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ ঘিরে আবারও উৎসবের আমেজ তৈরি হওয়ার কথা। নদীতে ছুটবে নৌকা, বাজবে বৈঠার ছন্দ, দুই পাড়ে জড়ো হবে মানুষ। তবে স্থানীয় সমঝোতার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে, এই আয়োজনের পরই সুনাই নদীর নৌকাবাইচের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে পড়বে যবনিকা।


শেয়ার করুনঃ

সিলেটজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

সুনাই নদী, বিয়ানীবাজার, নৌকাবাইচ, লাউতা ইউনিয়ন, সিলেট, স্থানীয় সমঝোতা, নৌকাবাইচ বন্ধ, গ্রামীণ ঐতিহ্য

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ