৩১ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

সিলেটে নারী পর্যটককে উত্যক্তের অভিযোগ, আটকের পর তিনজনকে ছেড়ে দিল স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৩১ মে, ২০২৬ ১:৫৭ অপরাহ্ন


সিলেট নগরীর উপকণ্ঠে একটি চা-বাগানে ঘুরতে এসে এক তরুণী ও তার দুই বোন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে তরুণীদের পিছু নিতে এবং বিরক্ত করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে।
 পরে রাতেই উত্যক্তকারী ৩ তরুণকে আটকের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।


ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গত শনিবার দুই ছোট বোনকে নিয়ে সিলেটের গোয়াবাড়ী এলাকার একটি চা-বাগানে ঘুরতে যান। সেখানে একদল যুবক শুরু থেকেই তাদের অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে যুবকেরা অশোভন আচরণ ও কটূক্তি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তরুণীর প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক তাদের পেছনে হাঁটছে এবং বিভিন্ন মন্তব্য করছে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত ও বিব্রতবোধ করেন বলে জানিয়েছেন।


ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র ও চা-বাগানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।


ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিন যুবককে আটক করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করার অঙ্গীকারও করা হয়। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।


ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটেছে সে এলাকায় খবর নিয়ে জানা গেছে, ওই বৈঠকে টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ কাওছার আহমদসহ এলাকার কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


এ ব্যাপারে সৈয়দ কাওছার আহমদ  বলেন, আমি খবর পেয়ে পরে সালিশে গিয়েছি। মামলা হলে এলাকাবাসী তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেবেন এমন আশ্বাস দিয়ে ৩ কিশোরকে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।


ওই সালিশে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজ খান সজিব। তিনি বলেন, ভিডিও দেখে এলাকার মানুষজন তিন কিশোরকে ধরে এনেছিলো। তাদের বয়স ১৩/১৪ বছর। পরে এলাকাবাসী তাদের মরধর করে। এবং ওই কিশোররা উত্যক্তের ঘটনায় ক্ষমা চায়। তাদের অভিভাবকরাও ক্ষমা চায়। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।


সজিব বলেন, ওই কিশোরদের বাড়ি টুকের বাজার ইউনিয়নের গোয়াবাড়ি, জাহাঙ্গীর নগর, উপর পাড়া এলাকায়। উত্যক্তের শিকার নারী মামলা করলে তিন কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে এমন আশ্বাস দিয়ে তাদের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।


এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নড়েচড়ে বসেছে। এ ব্যাপারে সিলেট মহাগেরের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও্সি) সহিদুর রহমান বলেন, নারী পর্যটককে উত্যক্তের ভিডিও নজরে আসার পর আমরা তিন তরুণকে সনাক্ত করে তাদের আটকে ওই এলাকায় অভিযান চালাই। তবে তাদের পাওয়া যায়নি।


ওসি বলেন, রাতে শুনতে পারি পুলিশ ওই তিনজনকে আটক করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তাদের ছেড়ে দেন স্থানীয়রা।


সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি আরও জানান, নারী ও পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সিলেটে নারী পর্যটক উত্যক্ত, সিলেট চা-বাগান, গোয়াবাড়ী চা-বাগান, নারী পর্যটক হয়রানি, সিলেটে পর্যটক নিরাপত্তা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ