মাংসের দাম নিয়ে সংঘর্ষ: সজিব-রব্বানী নির্দোষ, বিএনপি নেতার বহিষ্কার
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরান আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করার জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।
অভিযুক্ত দুজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা দুজনই ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার জানান, শুক্রবার শাহপরান হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশন করা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি হলের ফেসবুক গ্রুপে প্রভোস্টকে মেনশন দিয়ে একটি পোস্ট করেন। এরপর তারেক রহমান তাকে ডেকে জানান, ওই পোস্টে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন।
খাইরুল আরও জানান, একই রাতে আবারও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে তিনি নতুন করে অভিযোগ করেন। পরদিন রাতে প্রধান ফটকের সামনে গেলে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্টই বলবেন। এরপর হাসিবুর তাকে বুকে লাথি মারেন এবং তারেক মাথার পেছন ও মুখে একাধিকবার আঘাত করেন। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তারেক রহমান বলেন, হলের খাবার নিয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে প্রভোস্ট কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিষয়টি খাইরুলকে বোঝাতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসিবুর রহমানের চশমা ভেঙে যায়, হাতে আঘাত লাগে এবং তার মোবাইল ফোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি কাউকে মারধরের নির্দেশ দেননি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনার প্রশ্রয়ও দেন না।
তিনি জানান, হল-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ শিক্ষার্থীরা জানালে আলোচনা করেই সমাধানের চেষ্টা করা হয় এবং তার কাছে সব শিক্ষার্থী সমান।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
শাবিপ্রবি , শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , শাহপরান হল , ক্যান্টিনের খাবার, নিম্নমানের খাবার, শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রদল , সিলেট