ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক, ভোগান্তি চরমে
কৃষি
প্রকাশঃ ১৯ মে, ২০২৬ ৫:৪৩ অপরাহ্ন
বৈশাখের শুরু থেকেই টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান ঠিকভাবে শুকাতে পারেননিনা। এতেকরে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে আর্দ্রতার মান ঠিক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে গুদামের সামনের সড়কেই ধান শুকিয়ে পরে তা জমা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভেজা ও অপুষ্ট ধান নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন চালকল মালিকেরাও।
সুনামগঞ্জ জেলা-এর মল্লিকপুর খাদ্যগুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামসংলগ্ন সড়কে শতাধিক কৃষক ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত। কৃষকদের ভাষ্য, মাঠ থেকে ধান সংগ্রহের পর টানা বৃষ্টির কারণে তা ভালোভাবে শুকানো সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি গুদামে নির্ধারিত আর্দ্রতার মাত্রা পূরণ না হওয়ায় সেখানে এনে আবার রোদে শুকাতে হচ্ছে।
তবে কৃষকেরা জানিয়েছেন, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরকার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধান কিনছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৩ মে থেকে চলতি মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত জেলায় ২ হাজার ৩৭ টন ধান, ২ হাজার ২৬৮ টন সিদ্ধ চাল এবং ৭৮৫ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
জেলায় বর্তমানে ৩৬০টি রাইস মিল রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মিলারদের স্থানীয় বাজার থেকে ভেজা ও নিম্নমানের ধান কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা অটো রাইস মিল ও হাস্কিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ধান থেকে চালের উৎপাদন কম হচ্ছে। আগে প্রতি মণ ধান থেকে প্রায় ২৬ কেজি চাল পাওয়া গেলেও এখন মিলছে ২০ থেকে ২২ কেজি।
তিনি আরও বলেন, অটোমেটিক মেশিনে চাল প্রক্রিয়াজাত করার সময় কালো, অপুষ্ট ও বিজাতীয় দানা আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এতে মিল মালিকদের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চালের দাম পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
মল্লিকপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনূর রেজা বলেন, বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ধান ভালোভাবে শুকাতে পারেননি। রাতে বৃষ্টি ও দিনে পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় ধানে আর্দ্রতা বেশি থাকছে। তাই গুদামে জমা দেওয়ার আগে রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতার মাত্রা ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হচ্ছে।
মিল মালিকদের লোকসানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধানের মান কিছুটা খারাপ হওয়ায় চালের উৎপাদন কমছে। তবে সরকারের নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহ করলে মিলারদের বড় ধরনের ক্ষতির কথা নয়।
সুনামগঞ্জ, ভেজা ধান, আর্দ্র ধান সমস্যা, কৃষকের ভোগান্তি, রাইস মিল মালিক