১৮ মে ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

হাওরে ধান রক্ষায় ১৩ নদী খনন করবে পাউবো, ব্যয় দেড় হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৮ মে, ২০২৬ ১:২৮ অপরাহ্ন


প্রতিবছর বর্ষার আগেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরে নামে পাহাড়ি ঢল। ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে আসা সেই ঢলে ডুবে যায় কৃষকের স্বপ্নের বোরো ধান। এই পুনরাবৃত্ত বিপর্যয় ঠেকাতে এবার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাওর অঞ্চলের ১৩টি নদী ড্রেজিংয়ে হাতে নেওয়া হয়েছে এক হাজার ৪২৯ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) জানিয়েছে, 'হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যা ও সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়)' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার তিন জেলায় মোট ৩০৩ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হবে। পাশাপাশি উন্নত করা হবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার ২৩০ হেক্টর কৃষিজমিকে আগাম বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় সুরমা, বৌলাই, ধনু, ঘোড়াউত্রা, আপার মেঘনা, পুরাতন সুরমা, দাড়াইন, চামতি, সোমেশ্বরী, কাউনাই, বৌলাই-পাটলাই, গাং ও আবুয়া নদীতে খননকাজ পরিচালিত হবে। এর মধ্যে আটটি নদী সুনামগঞ্জে এবং পাঁচটি কিশোরগঞ্জে অবস্থিত।

প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি নদী পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সুরমা-বৌলাই-আপার মেঘনা, পুরাতন সুরমা এবং আবুয়া-পাটলাই-কাউনাই রিভার সিস্টেম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-২) মো. ইমদাদুল হক জানান, হাওরাঞ্চলের নদীগুলো দীর্ঘদিন ধরে পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নামতে পারে না। এতে আকস্মিক বন্যার সময় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ১৩টি নদী ড্রেজিং করা হলে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে আগাম বন্যা থেকে কৃষকের ধান রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং হাওরে বীজতলা প্রস্তুত ও রোপণের সময়ও বাড়বে।

এদিকে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বিভিন্ন ব্যয় খাত নিয়েও আলোচনা হয়। শুধু নদী ড্রেজিং বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৪৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সভায় তিন জেলায় প্রকল্প তদারকির জন্য ১২টি মোটরসাইকেল কেনা এবং একটি পরিদর্শন বাংলো নির্মাণের প্রস্তাবেও সম্মতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এক হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছর হাওরে দ্রুত পানি বাড়ে। নদীগুলো ভরাট থাকায় সেই পানি নামতে লম্বা সময় লাগে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৫ লাখ টন বোরো ধান আগাম বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত তিন জেলার ১৬ উপজেলায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

হাওর, নদী খনন, পাউবো, পানি উন্নয়ন বোর্ড

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ