
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে দিন-রাত মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী রহিম উল্লাহর নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, তীর ভাঙছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি শুকিয়ে চর জেগে উঠলেই শুরু হয় অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টরের মাধ্যমে কয়েক লক্ষাধিক টাকার মাটি নদীর পাড় কেটে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশ ভেঙে যাচ্ছে, কমছে নাব্যতা, ধসছে তীরবর্তী এলাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামীণ জনপদের ভেতর দিয়ে একের পর এক ট্রাক্টর নদীর পাড় কেটে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে এবং আশপাশের বাড়িঘর ও ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়ছে।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, রহিম উল্লাহর নির্দেশেই এই কাজ চলছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। তাদের দাবি, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু লোক টাকা নিয়ে যায় এবং রাজনৈতিক দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা পাহারা দেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, কোনোভাবেই অবৈধ নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। এই পাড় দিয়ে বাড়ি, রাস্তাসহ বিভিন্ন ভরাটের ব্যবসা করছে এই চক্রটি। কুশিয়ারা নদীর পাড় থেকে মাটি কাটায় এলাকায় গভীর করে মাটি কাটা উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এর খেসারত দিতে হয় নদীর ধারের জমির মালিকদের। ক্ষতি হয় ফসলি জমির, অনেক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
অভিযুক্ত রহিম উল্লাহ বলেন, ‘আমি সামান্য মাটি নিচ্ছি। এক্সিডেন্ট আমার কিছু করতে পারবে না।’
জগন্নাথপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন বলেন, ‘আমি তহশিলদারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ জানান, যারা অবৈধভাবে নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল বলেন, ‘নদীর পাড় থেকে এক ইঞ্চি মাটিও কাটা যাবে না। আমি এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
উল্লেখ্য, অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে দেশের সব নদীকে ‘আইনি সত্তা’ (লিগ্যাল এনটিটি) ঘোষণা করা হয়।
শেয়ার করুনঃ
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন
জগন্ননাথপুর, সুনামগঞ্জ, কুশিয়ারা নদীর পাড় কাটা, পরিবেশ,


