২৫ মে ২০২৬

নির্বাচন / স্থানীয় সরকার

স্থানীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না রাখার পরিকল্পনা ইসির

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২৫ মে, ২০২৬ ৩:৪৯ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনী (সেনা) মোতায়েন না রাখার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ স্থানীয় নির্বাচনগুলো বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমেই পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


ইসি সূত্র জানায়, অনুকূল আবহাওয়া এবং শীতকালকে কাজে লাগিয়ে আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।


বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন, প্রায় ৪৫০টি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ৬০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। এর বাইরে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আরও প্রায় ২ হাজার ৮০০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সীমানা, মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা তফসিল ঘোষণার আগেই নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটি এখনো গেজেট আকারে কমিশনের হাতে আসেনি। গেজেট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধনের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।


জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে গঠিত আইন সংস্কার কমিটি ইতিমধ্যে বিধিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল, ইভিএম ও কাগজের পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ না রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা।


এ ছাড়া নির্বাচনী জামানতের পরিমাণ বাড়ানো, সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারে অফিস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো বন্ধে বিধান যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।


এসব প্রস্তাব গেজেট আকারে প্রকাশের পর কমিশনের মূল সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষা মৌসুম, বাজেট প্রক্রিয়া এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলেও তারা জানান।


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা। বাজেট প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে, যাতে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।


এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে প্রস্তুতির জন্য আমাদের সামনে এখন বিধিমালা সংশোধনের কাজ পড়ে আছে। প্রয়োজনে আমরা অংশীজনদের সঙ্গেও বসতে পারি। এক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই বিধিমালার সংশোধন আনা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন করে ফেলতে পারব বলে আশা করি।


স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংসদ নির্বাচনের মতো সশস্ত্র বাহিনীর মোতায়েন করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনটা আমরা ভাবছি না। সময় আসুক, তখন কমিশন বসে সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

ইসি, সেনা মোতায়েন, ইউপি নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ