সমালোচনার মুখে বাংলাদেশ বেতারের ‘ড্রেস কোড’ নির্দেশনা বাতিল
বাংলাদেশ
প্রকাশঃ ২৫ মে, ২০২৬ ৩:১২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য জারি করা পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনা অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার পর রোববার (২৪ মে) নতুন এক অফিস আদেশে আগের নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এএসএম জাহীদের স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বলা হয়, সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা আর কার্যকর থাকবে না।
এর আগে ৪ মে কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার পরিচালক (বার্তা) তানিয়া নাজনীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকবিধি নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করে নারী ও পুরুষ উপস্থাপকদের জন্য আলাদা পোশাকের নির্দেশনা দেওয়া হয় ওই নীতিমালায়।
নির্দেশনায় নারী সংবাদ উপস্থাপকদের শাড়ি অথবা ওড়নাসহ সালোয়ার-কামিজ পরিধানের কথা বলা হয়। পাশাপাশি বড় টিপ ব্যবহার না করা এবং একপাশে ওড়না না পরার নির্দেশনাও ছিল। পুরুষ উপস্থাপকদের ক্ষেত্রে ফুলহাতা শার্ট ও টাই পরার কথা উল্লেখ করা হয়, বিশেষ দিবস ও উৎসবে পাঞ্জাবি পরার সুযোগ রাখা হয়। একই সঙ্গে টি-শার্ট ও গেঞ্জি পরিধান না করার নির্দেশনাও ছিল।
এই নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এমন পোশাকবিধি আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে নারী উপস্থাপকদের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে পৃথক নির্দেশনা দেওয়াকে অনেকে লিঙ্গবৈষম্যমূলক বলেও অভিহিত করেন।
সমালোচকদের মতে, সংবাদ উপস্থাপনায় মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত উপস্থাপনার দক্ষতা, উচ্চারণ ও পেশাদারিত্ব; পোশাকের নির্দিষ্ট ধরন নয়।
অবশেষে বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেই পূর্বের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ বেতার।
বাংলাদেশ বেতার, ড্রেস কোড, সংবাদ উপস্থাপক, নারী উপস্থাপক পোশাক