ভাষা ও সাহিত্য গবেষক ড. সফিউদ্দিন আহমদ স্মরণসভা শনিবার
শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি
প্রকাশঃ ২৪ মার্চ, ২০২৬ ৭:০৩ অপরাহ্ন
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বাউলগানের একটি আসরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে কোনো মামলা হয়নি। এখনো কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি। পুলিশ বলছে, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষে মীমাংসার পথে রয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) রাতে উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে ইব্রাহিম শাহ মাজারসংলগ্ন স্থানে চলা বাউলগানের অনুষ্ঠানে একদল লোক হামলা চালায়। হামলাকারীরা মঞ্চে উঠে বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন না করার হুমকি দেয়। আকস্মিক এ হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আয়োজকসহ উপস্থিত ভক্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর তারা মিছিল করে এলাকা ত্যাগ করে।
আয়োজকদের দাবি, প্রায় এক শতাব্দী ধরে মাজারকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়ে বাউলগানের এই আয়োজন হয়ে আসছে। এবারও তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন রাতেই শতাধিক লোকের সংঘবদ্ধ হামলায় তা পণ্ড হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাজারের খাদেম দুদু মিয়া বলেন, ‘প্রায় ১০০ বছর ধরে মাজারকে ঘিরে ওরস হয়ে আসছে। রোববার রাতে হঠাৎ স্থানীয় এক ব্যক্তি তার আত্মীয়স্বজন ও কিছু বহিরাগত লোক নিয়ে এসে গানের আসরে হামলা চালান। পরে তারাই মসজিদে ভাঙচুর করে আমাদের দোষারোপ করছেন।’
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যিনি মসজিদের মোতাওয়াল্লি, তিনিই মাজার কমিটির সভাপতি। তারই এক স্বজন দীর্ঘদিন ধরে মাজার ও মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গানের আসরে হামলা এবং পরবর্তীতে মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই ঘটেছে।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার জানান, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আয়োজকেরাও মামলা করবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মূল মাজারের ভেতরে নয়, পাশের একটি অস্থায়ী মঞ্চে গান হচ্ছিল স্পিকারে এবং এতে স্থানীয়দের রাতের বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণেই কিছু মানুষ এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। কারো শরীরে কেউ হাত তুলেনি তবে কিছু চেয়ার ভেঙেছে এটা সত্য। যারা প্রতিবাদ করেছে তারা একে অপরের প্রতিবেশি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, উভয় পক্ষই নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। একদিকে গভীর রাতে উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান করা ঠিক হয়নি, অন্যদিকে হামলা চালিয়ে তা বন্ধ করাও সঠিক হয়নি। স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিলেট, বিশ্বনাথ, বাউল আসর, হামলা