শাবিপ্রবিতে লুঙ্গি-গামছা পরে ভাইভা পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থী
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ন
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল ভাইভায় ব্যতিক্রমী এক প্রতিবাদ জানালেন শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তিনি প্রথাগত পোশাকের পরিবর্তে লুঙ্গি ও গামছা পরে ভাইভায় অংশ নেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তোমরা চাষাভূষার টাকায় পড়াশোনা করো’— বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে এই বাক্যটি বহুবার শিক্ষকদের মুখে শুনেছি। কিন্তু আজ যখন চারদিকে তাকাই, দেখি সেই ‘চাষাভূষা’ আর মেহনতি মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীনতা ও বৈষম্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর দুজন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। জানি না তাঁদের মৃত্যুর পর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্র পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না।পর্যাপ্ত ব্যবস্থা যদি নেওয়া হয়েই থাকে, তবে প্রতিবছর কেন শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে? সেটার জবাবদিহি করার কেউ নেই। তাঁদের জন্য খুব কম মানুষই আওয়াজ তোলেন, কারণ তাঁরা শ্রমিক, চাষাভূষা।তাদের বেলায় প্রতিবাদের ভাষা অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি 'স্যাড রিঅ্যাক্ট' আর কয়েক শব্দের কমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তথাকথিত সুশীল সমাজ বরাবরের মতোই নীরব।
আশিক জানান, যারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে-আমাদের কৃষক, শ্রমিক, রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সকল মেহনতি মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে অবহেলা, উদাসীনতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমি আমার তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল ভাইভায় প্রথাগত ‘ফরমাল’ পোশাকের পরিবর্তে মেহনতি মানুষের চিরচেনা পোশাক লুঙ্গি ও গামছা পরে অংশ নেই।
তিনি আরো বলেন, ভাইবা বোর্ডে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলো। তাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা আমার প্রতিবাদের ভাষাকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
শাবিপ্রবি, শিক্ষার্থী প্রতিবাদ, লুঙ্গি গামছা, শ্রমিক অধিকার, সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়