সিলেটে নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১:০৭ অপরাহ্ন
বসন্তের আগমনী বার্তায় লাল রঙে সেজেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর। যাদুকাটা নদী এক পাশে, অন্য পাশে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এই নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝখানে গড়ে ওঠা জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান এখন রক্তরাঙা ফুলে মোড়া। প্রায় তিন হাজার শিমুল গাছে ফুটেছে লাল ফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের বুকে লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা অনাবাদি জমিতে ২০০২ সালে বাগানটি গড়ে তোলেন স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ও দানবীর প্রয়াত জয়নাল আবেদীন। তাঁর স্বপ্নের এই বাগান এখন ভাটির জনপদের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাগানটির তত্ত্বাবধান করছেন তাঁর ছেলে রাখাব উদ্দিন।
বসন্তের শুরু, পহেলা ফালগুন ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বাগানের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ দর্শনার্থীর ভিড়ে। শিমুল ফুলের এই সৌন্দর্য সাধারণত প্রায় এক মাস স্থায়ী হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে লাল ফুলে ভরা গাছের সারি। ডালে ডালে পাখির কিচিরমিচির আর পর্যটকদের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণবন্ত পরিবেশ। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
বাগান দেখতে আসা পর্যটক ও আইনজীবী শাহীন আলম বলেন, এমন দৃশ্য দেশের আর কোথাও দেখিনি। এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে নদী আর মাঝখানে শিমুল বাগানঅসাধারণ অনুভূতি।
আরেক পর্যটক বাবুল মিয়া বলেন, প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে পর্যটক আরও বাড়বে।
সিলেট থেকে আসা পর্যটক ফারুক আহমেদ জানান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। আসতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দ্রুত সড়ক উন্নয়ন জরুরি।
পর্যটক শর্মিলা বেগম বলেন, ফুলের গন্ধ না থাকলেও শিমুলের রঙ সবাইকে আকর্ষণ করে। তবে বসার জায়গা, ছাউনি ও খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।
বাগানের তত্ত্বাবধায়ক রাখাব উদ্দিন বলেন, এটি আমার বাবার হাতে গড়া স্বপ্নের বাগান। পর্যটকদের সুবিধার্থে কিছু আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।
সুনামগঞ্জ, শিমুল বাগান, তাহিরপুর, পর্যটন