১৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে

কানাডায় সিলেটের ডলি বেগমের ঐতিহাসিক জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:০৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। সংগৃহীত

কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। দেশটির ফেডারেল উপ-নির্বাচনে টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

 

মৌলভীবাজারের মনু নদীর তীরের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ডলি বেগমের এই সাফল্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বিজয় কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং কানাডার জাতীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

 

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জয় দলটির জন্য কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ জয়ের মাধ্যমে দেশটির পার্লামেন্টে দলটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

 

শৈশবে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমানো ডলি বেগম টরন্টোর ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন।

 

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ডলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। নতুন দেশে নিজের অবস্থান গড়ে তোলা থেকে শুরু করে মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই পথটি ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। তবে দৃঢ় মনোবল ও শিক্ষার শক্তিতে তিনি সেই বাধা অতিক্রম করেছেন।

 

এর আগে, তিনি অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। ২০১৮, ২০২২ এবং সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানাডার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্বকে শক্তিশালী করেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডলি বেগমের জীবনে সংগ্রামের অধ্যায়ও কম নয়। পারিবারিক আর্থিক সংকট, বাবার দুর্ঘটনা সবকিছু সামলে তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। আজ তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত পুরো সিলেটসহ দেশবাসী।

 

ডলি বেগমের চাচা আব্দুস শহীদ জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা রাজা মিয়া ২০০১ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় দীর্ঘদিন বিছানায় থাকার কারণে পারিবারিকভাবে অনেক কঠিন সময় অতিক্রম করতে হয়েছে ডলি বেগমের। সে সময় একমাত্র ছোট ভাই মহসিন মিয়াকে নিয়ে হিমসিম খেতে হয়েছে ডলি বেগমের। ডলি বেগমের বিজয়ে আজ পুরো সিলেটবাসী গর্বিত। ডলি বেগম সিলেটের অহংকার।

 

মনুরমুখ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ ইমরান সাজু বলেন, আমার ইউনিয়নের একটি মেয়ে কানাডা জয় করেছে তা আমাদের সিলেট তথা পুরো দেশের জন্য গর্বের। আমরা ইউনিয়নবাসী খুবই আনন্দিত। ডলি বেগমের বিজয়ে জন্মস্থান মনুপাড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে।


শেয়ার করুনঃ

বিশ্বজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

কানাডা, ইতিহাস, সিলেটি, ডলি বেগম

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ