জগন্নাথপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্ধকৃত অর্থ বিতরণে বিলম্বের অভিযোগ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:১৭ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ করা ১২ লাখ টাকা বিতরণে বিলম্ব এবং ১৫ শতাংশ ও আইটিটি বাবদ অর্থ কেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, বরাদ্দের টাকা থেকে কমিশন কেটে রেখে বিদ্যালয়গুলোকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বিদ্যালয়প্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো—আশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলবাক (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গয়েশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোহাম্মদপুর সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বরাদ্দের টাকা আসার পর প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস ধরে তা বিদ্যালয়গুলোতে বিতরণ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়প্রতি বরাদ্দ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে কমিশন রেখে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও সুশীল সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বরাদ্দের অর্থ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণ এবং অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা।
মিরপুর ইউনিয়নের মিরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক আব্দুল অদুদ বলেন, ‘আমার স্কুলে এখনো ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা আসেনি। শুনেছি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রতি স্কুলে এসেছে। পার্সেন্টেজ দিয়ে এক লক্ষ টাকা টিকতে পারে।
গয়েশ্বর পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, ‘ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা এসেছে শুনেছি এখনো পাইনি।’
কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক নিপেশ দাস বলেন, ‘ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা এসেছে, অনেক আগে আমরা বাউচার জমা দিয়েছি। এখন পর্যন্ত টাকা পাইনি। অফিসে কয়েকদিন গিয়েছি, আমাদেরকে পাত্তা দেওয়া হয়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, ‘দুই মাস আগে ক্ষুদ্র মেরামতের ১২ লক্ষ টাকা এসেছে। এখনো কোন স্কুলে দেইনি।’ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, তিনি বলেন, ‘এটা আমার ভুল হয়েছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস বলেন, ‘বরাদ্দ কৃত অর্থ বিতরণে বিলম্ব হওয়ার কথা না। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখবো। এটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ইন্টার্নাল (অভ্যন্তরীণ) ব্যপার।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়, অর্থ বিতরণ, বিলম্ব, কমিশন, শিক্ষক