২৬ আগস্ট ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দেড় কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৫৭ অপরাহ্ন


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমির দলিল নিবন্ধনের সময় প্রায় দেড় কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী মো. জসিম মিয়ার দাবি, আগে করা বায়না দলিলের তথ্য গোপন করে একই জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে।


এ ঘটনায় সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জসিম মিয়া। অভিযোগের অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।


অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলের রাধানগরের গৌতম রুদ্রপালসহ তিন ব্যক্তি ২০২০ সালের ৮ জুন ভানু লাল রায়ের কাছে ৪ দশমিক ২৭২৬ একর জমি বিক্রির জন্য ১৬২২ নম্বর বায়না দলিল নিবন্ধন করেন। জমিটির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। ওই সময় বায়না বাবদ ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয়।


অভিযোগে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ক্রেতাপক্ষ ও দলিল লেখকের যোগসাজশে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় দেখিয়ে সরকারি মৌজা মূল্য কমিয়ে দেখানো হয়। এর ফলে নিবন্ধনের সময় প্রাপ্য সরকারি রাজস্বের একটি বড় অংশ আদায় হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।


জসিম মিয়ার হিসাব অনুযায়ী, এভাবে জমির মূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে সরকার প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৫১১৪/২০২৪, ৫১১৬/২০২৪, ৫১২৯/২০২৪, ৫১৩০/২০২৪, ৫১৩১/২০২৪, ৫১৩২/২০২৪, ৫১৩৩/২০২৪, ৫১৩৪/২০২৪, ৫১৩৫/২০২৪, ৫১৩৬/২০২৪, ৫১৩৭/২০২৪, ২৯৯৩/২০২৩, ২৯৯২/২০২৩, ৪৩১৬/২০২০, ২৯৬৭/২০২৩ ও ৪৩০৫/২০২৪ নম্বর দলিলসহ আরও কয়েকটি দলিলে জমির প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এসব দলিল বিভিন্ন সময়ে নিবন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, সংশ্লিষ্ট বায়না দলিলগুলো ২০২০ সালে নিবন্ধন করা হয়েছিল। তিনি শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন ২০২৪ সালে। বায়না দলিলের তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই।


মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি, রাজস্ব ফাঁকি, জমির দলিল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ