বিশ্বনাথে আ.লীগের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা, আসামি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ন
সিলেটের বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদেরও। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিশ্বনাথ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ১৭।
মামলার বাদি মো. ইরন মিয়া অলংকারি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলার সাবান টেংরা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে।
মামলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী ছাড়াও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীকেও আসামী করা হয়েছে। মামলায় ৯২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরও ৬০-৭০জনকে। বিএনপি-জামায়াত ছাড়া আসামীদের মধ্যে বাকিরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আসামীরা রামপাশা ইউনিয়নের বিশ্বনাথ লামাকাজী পাঁকা সড়কের গাড়ীর টায়ারে অগ্নিসংযোগ রাস্তায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশবিরোধী শ্লোগান দেয়। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি করাসহ অস্থিতিশীলতা তৈরি করে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ৯২ জন আসামীর মধ্যে রয়েছেন ৬৮ নম্বর আসামী এখলাছ মিয়া অলংকারি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক, ৮৮ নম্বর আসামী রনি মিয়া খাজাঞ্চি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ছাত্র-শিবিরের সভাপতি ও ৮৬ নম্বর আসামী রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে রেনু মিয়া জামায়াতের কর্মী।
এ বিষয়ে মামলার আসামী অলংকারি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক এখলাছ মিয়া বলেন, 'আমার প্রতিবেশির সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এটার জেরেই প্রতিহিংসামূলক চক্রান্ত করে আমাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তালিকায় নাম ঢুকানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি ছাড়াও বিএনপির আরও কয়েকজন কর্মীকেও আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি দায়িত্বশীল ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছেন বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। একটা সমাধান হবে।’
এখলাছ মিয়া আরও বলেন, ‘আমি মামলার বাদির সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনিও আমাকে বলেন আসামীদের নামের তালিকায় আমার নাম কীভাবে আসলো তিনি নিজেও জানেন না।’
বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন ‘জামায়াত কর্মী রেনু মিয়া ও ছাত্র-শিবিরের সভাপতি রনি মিয়াকে এই মামলায় পরিকল্পিতভাবে আসামী করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, গত বুধবার রাতে ইরন মিয়া বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, মামলার বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন বাদি মো. ইরন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না। জানতে হলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি দলের একজন হিসেবে স্বাক্ষর দিয়েছি।’
জানতে চাইলে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া বলেন, এ বিষয়ে মামলার বাদির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
নাশকতার মামলা, বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ, বিশ্বনাথ থানা, রাজনৈতিক মামলা