ড্রেন নির্মাণ প্রসঙ্গে দিরাইয়ে পৌর প্রকৌশলীর ‘ভাইরাল অডিও’ ঘিরে বিতর্ক
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ৫ জুলাই, ২০২৬ ১:৪১ অপরাহ্ন
দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন এই দপ্তরে দিনের বেলা কর্মদিবসে গিয়েও কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না সেবাপ্রত্যাশীরা। অভিযোগ উঠেছে, অফিস সহকারী রাতের বেলা দরজা খুলে কিছুক্ষণ বসে থেকেই চলে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালগঞ্জে বর্তমানে কোনো মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নেই। কার্যালয়ের নেমপ্লেটে মো. আফজাল হোসেন নামে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম লেখা থাকলেও আশপাশের বিভিন্ন দপ্তরের কেউ তার উপস্থিতি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি এই কার্যালয়ে আসেন না।
অন্যদিকে মো. মোজাম্মেল হক নামের একজন অফিস সহকারী দায়িত্বে থাকলেও তাকে কোনো কার্যদিবসে দিনের বেলা কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনুপস্থিত। আশপাশের দপ্তরের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, মোজাম্মেল হককে তারা কোনোদিনও অফিস করতে দেখেননি, তার অবস্থানও নিশ্চিত করে কেউ জানেন না।
বিগত কয়েক মাস ধরে কার্যালয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। দরজার বাইরে দেয়ালে এক টুকরো কাগজে প্রিন্ট করা অফিস সহকারী মোজাম্মেল হকের নাম ও মোবাইল নম্বর সাঁটানো আছে। কিন্তু তিনি কোথায় থাকেন, কী কাজ করেন—তা কারো জানা নেই।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, অফিস সহকারী মোজাম্মেল হক রাতের বেলা অফিসের দরজা খুলে কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে যান। এদিকে দিনের বেলা কর্মঘণ্টায় মহিলা বিষয়ক প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের আরিফ মিয়া, জামালগঞ্জ নতুন পাড়ার জয়নব খাতুন, বেহেলী ইউপির সদস্য হাফছা আক্তারসহ আরও কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, মহিলা বিষয়ক জরুরি কাজে অফিস সহকারী মোজাম্মেল হক ও কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের সাক্ষাতের জন্য দুই মাস ধরে তারা আসা-যাওয়া করছেন, কিন্তু কাউকে পাচ্ছেন না। এমন অনেক নারী মাসের পর মাস কার্যালয়ে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসংখ্যবার মোজাম্মেল হকের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন না, কদাচিৎ রিসিভ করলেও কোনো কথা না বলেই কিছুক্ষণ পর লাইন কেটে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একেবারে সম্মুখেই অবস্থিত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার এই কার্যালয় কীভাবে মাসের পর মাস তালাবদ্ধ থাকে, তা জনসাধারণের বোধগম্য নয়। এতে মহিলা অধিদপ্তরের সেবা নিতে আসা মানুষজন হয়রানির শিকার হয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে বিগত সময়ে উপজেলা নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তাকে স্থানীয় সাংবাদিকেরা অবগত করলেও কোনো সুফল আসেনি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এজেএম রেজাউল আলম বিন আনছারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,জামালগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী মোজাম্মেল দুজনেরই এক্টিভিটি ভালো না, খুবই খারাপ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কেবল আমাদের প্রধান কার্যালয়, মন্ত্রণালয়। সেজন্য লিখিত অভিযোগ না পেলে তো আমরা কিছু করতে পারি না। চেয়ারম্যান, মেম্বার সবাই মৌখিক অভিযোগ করেন, লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ করেন না। এই সমস্যা শুধু জামালগঞ্জ নয় জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, সব জায়গাতেই এই অপকর্মগুলো করতেছে। আপনারা যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন, তবে আমি মন্ত্রণালয়ে লিখব, তখন যদি কিছু একটা হয়।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, আমি আজ উনাকে ডাকব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, তালাবদ্ধ