শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের নির্দেশে ৩ দিন পর ফের শুরু সড়ক নির্মাণকাজ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ২ জুলাই, ২০২৬ ৭:৩৪ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের কালিঘাট-মনু-ধলই সার্কুলার সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গুণগত মান নিশ্চিতের শর্তে পুনরায় গতি ফিরেছে প্রকল্পে।
এর আগে গত রোববার শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজে গাফিলতির মাধ্যমে সড়ক নির্মাণের অভিযোগে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা।
এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুর রাকিব নির্মাণাধীন সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনেন কর্মকর্তারা।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্লাবন পাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জারু, আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান রিপন, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সড়ক পরিদর্শনের আগে ঘটনাস্থলে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকির ঘাটতির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত নকশা ও কার্যসূচি (শিডিউল) অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছিল। তবে এলাকাবাসীর আপত্তির কারণে তিন দিন কাজ বন্ধ ছিল। ইউএনও মহোদয়ের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। আমরা গুণগত মান নিশ্চিত করে পুনরায় কাজ শুরু করব।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, “কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল। সরেজমিনে এসে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগামীতে গুণগত মান বজায় রেখে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ইটের খোয়া, পাথর ও গাইডওয়ালের গুণগত মানসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য হবে না।”
সড়ক নির্মাণ, শ্রীমঙ্গল, অনিয়ম, এলজিইডি, প্রশাসন, জনগণের অভিযোগ