০৬ জুলাই ২০২৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

তাহের-খালেদা সাহিত্যসভার শিক্ষা সুহৃদ সম্মাননা অনুষ্ঠিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশঃ ৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন


তাহের-খালেদা সাহিত্যসভা প্রবর্তিত প্রথম শিক্ষা সুহৃদ সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সিলেটের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে এ সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়। 


মদন মোহন কলেজের সাবেk অধ্যক্ষ ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহ’র সভাপতিত্বে ও প্রভাষক আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় সিলেটের বিভিন্ন সেক্টরের ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 


সংবর্ধিত অতিথি নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সিলেট শহর আমাকে টানে, এ শহরের অলিগলি আমার চেনা। আমি-তাহের বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে কত ঘুরেছি, আড্ডা দিয়েছি তার সীমা নাই। তবে, আমি খালি হাতে ছিলাম, তাহেরের হাতে থাকতো বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের সেরা লেখকদের বই। আমি ভালো ছাত্র ছিলাম না সব সময় তাহেরকে ফলো করতাম। 

 

তিনি বলেন, বার্ধক্যকে আমি না বলে দিয়েছি। এখনো সিলেটের সেই বন্ধু বান্ধবদের আড্ডা আমাকে টানে। এ আয়োজনের জন্য তিনি তাহের-খালেদা সাহিত্যসভাকে ধন্যবাদ জানান। 


ব্লুুবার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক, কবি নাসিমা চৌধুরী বলেন, তাহের বহু গুনের অধিকারী একজন মানুষ। প্রবাসে বসেও দেশের মানুষের কথা যে চিন্তা করেন এটা বিরল। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, মানবতা যেখানে সংকুচিত হচ্ছে সেখানে তাহের অনন্য। সেই আশির দশকে যখন আমরা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতাম তাহেরের উপর আমাদের পরিবারের সদস্যরাও ভরসা করতেন। তাহের উদার মানবতাবাদী মানুষ। সেই ছাত্রজীবন থেকে দেখেছি মানুষকে সহযোগিতা করার প্রবণতা তাঁর মধ্যে ছিল। এই ধারা এখনো বিদ্যমান। 


মইনউদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যাপক পার্থ সারথী নাগ বলেন, আজ তাহের-খালেদা সাহিত্যসভা আমাকে যে সম্মাননা দিয়েছে তার যোগ্য আমি নই। তাহের ভাই আজ যে ধারা সৃষ্টি করলেন এটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি বলেন, আজ কীযে ভালো লাগছে তা বলার ভাষা নেই। অবসরের পর মনে হচ্ছে আজ নতুন করে প্রাণ পেয়েছি। 


গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক বরন কুমার চৌধুরী বলেন, তাহের স্যার সহকর্মী হলেও তিনি আমার শিক্ষকতুল্য ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে যা শিখেছি তা জীবনের পরতে পরতে কাজে লাগে। তিনি আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে। তারপরও এমন আয়োজনে আমাকে যে সম্মানিত করেছেন তার বিনিময় হয় না।  


গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন বলেন, তাহের স্যার আমাদের আলোকবর্তিকা। অন্য ক্লাস বাদ দিয়ে আমরা স্যারের ক্লাস করতাম। তিনি শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো দেখতেন। আজ নতুন করে তাহের স্যার আমাদের যে সম্মানিত করলেন এই ঋণ শোধ করার  নয়।

 

আম্বরখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ম্হোাম্মদ জমির উদ্দিন বলেন, স্যারের সাথে স্মৃতির শেষ নেই। একবার ইন্ডিয়ায় শিক্ষকদের দাবি সম্বলিত একটি সম্মেলনে আমরা গিয়েছিলাম। গাড়িতে সবাই কথা বলছে কাউকে থামানোর উপায় নেই। হঠাৎ তাহের স্যার বললেন, আমরা যেহেতু দেশের বাইরে আসছি সবাই ইংরেজিতে কথা বলবো। মুহুর্তেই সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। তিনি এ সংগঠনের সাফল্য কামনা করেন। 


বালাগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক নন্দা দে বলেন, আমি মূলত শিক্ষকই হতে চেয়েছি। আজ সাত জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সম্মান দিয়ে তাহের ভাই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এটা আমার জীবনের পরম পাওয়া। তিনি বলেন, বালাগঞ্জ কলেজের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার সহকর্মী, প্রিয় শিক্ষার্থীদের কখনো ভুলতে পারি না। 


সভাপতির বক্তব্যে ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, তাহের ভাই একজন বিরলপ্রজ মানুষ। তিনি মনে করেন-শিক্ষকের স্থান সবার উপরে হওয়া উচিত। এ জন্য এ সংঘটন শিক্ষকদের সম্মাননা দিয়ে তার যাত্রা শুরু করলো। ভবিষ্যতে অন্যান্য সেক্টরে যারা দেশ, জাতির জন্য কাজ করেছেন তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হবে। 


অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আব্দুল হামিদ সেলিম, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ বিলাল উদ্দিন, আইডিয়ার পরিচালক নজমুল হক, নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লিয়াকত শাহ ফরিদী, কবি মোস্তাক আহমদ দীন, লেখক-গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল, কবি পুলিন রায়, অভ্র প্রকাশনের স্বত্ত্বাধিকারী অপূর্ব শর্মা, কবি মালেকুল হক, অধ্যাপক প্রনব কান্তি দেব, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক আজির হাসিব, মনির হাসান প্রমুখ।


শেয়ার করুনঃ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে আরো পড়ুন

তাহের-খালেদা সাহিত্যসভা, শিক্ষা সুহৃদ সম্মাননা, সিলেট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ