শাল্লার ইছাকপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, পরিদর্শনে বিএনপির প্রতিনিধি দল
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৩১ মে, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
ঈদুল আজহার আগের দিন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ইছাকপুর গ্রামে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সেখানকার মানুষের বাড়িঘর ও জানমালের যাতে কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, এজন্য ঘটনার পর থেকে সার্বক্ষণিকভাবে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান।
এদিকে, এ ঘটনার পর শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর নির্দেশনায় শাল্লা উপজেলা বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিনিধি দলে শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবু গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমানসহ অন্তত ২৫-৩০ সদস্য ছিলেন।
এর আগে গত বুধবার পূর্ব বিরোধ ও পরবর্তীতে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ইছাকপুর গ্রামের সাইদুর রহমান ও আওয়াল নূর গ্রুপের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে পায়েল মিয়া নামের (১৮) এক যুবক টেটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরের দিন সিলেট এম ওজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহেরা বেগম (৪২) নামে এক নারীরও মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষের পর এবার আওয়াল নূর গ্রুপের লোকজনের বাড়িঘর ভাংচুর, গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় জিনিস লুটপাটের অভিযোগ তুলেন সাইদুর রহমান গ্রুপের লোকজনের বিরুদ্ধে।
সংঘর্ষের পর আওয়াল নূর গ্রুপের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে ধান, চাল, গবাদি পশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হচ্ছে। তবে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে লুটপাট ও হামলা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাইদুর রহমান।
তিনি বলেন, আমাদের পক্ষের কেউ কোনো লুটপাটে জড়িত নয়। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আওয়াল নূর গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালালে এতে আমাদের দুইজন নিহত হয়।
এদিকে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়ালের নেতৃত্বে, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবু গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমানসহ ২৫-৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এসময় নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় সে বিষয়ে কথা বলেন।
প্রতিনিধিদলে থাকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘ইছাকপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে দু'জন লোক মারা গেছেন এটা খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। আবার অপরপক্ষের বাড়িঘরেও লুটপাট ও ভাঙচুরের কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সবাইকে সতর্ক করে এসেছি। যাদের বাড়িঘরে ধান ও গৃহপালিত পশু রয়েছে সেগুলো নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করা সহ স্বাভাবিক চলাফেরা করার জন্য সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে।
শাল্লা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রোকিবুজ্জামান বলেন, দু’জন নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ও জানমালের যাতে কোন ধরনের ক্ষতি না হয় সবকিছু মোকাবেলায় সার্বক্ষণিকভাবে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শাল্লা, সংঘর্ষ, অতিরিক্ত পুলিশ