১৮ মে ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / প্রকৃতি

ঈদের ছুটিতে ঘুরতে পারেন সিলেটের যেসব স্থানে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২১ মার্চ, ২০২৬ ৬:২৪ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্থান। ছবি : আনিস মাহমুদ

ঈদুল ফিতর শুধু ধর্মীয় আনন্দের উৎসব নয়, এটি অনেকের জন্য হয়ে ওঠে ঘোরাঘুরিরও এক সুবর্ণ সুযোগ। কয়েক দিনের টানা ছুটি পেলে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকেই। সেই তালিকায় বরাবরই শীর্ষে থাকে সিলেট। পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান আর সবুজে ঘেরা এই অঞ্চল যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। তাই ঈদের ছুটিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামে এই অঞ্চলে।

ঈদের সময় সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। বাস, ট্রেন কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে প্রতিদিনই শত শত মানুষ আসেন এই অঞ্চলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা মানুষদের হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে জাফলং, বিছানাকান্দি, লালাখালসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা। অনেকেই ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে প্রকৃতির নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে সিলেটকে বেছে নেন।

জাফলং: পাহাড় আর পাথরের মিলনমেলা


সিলেটের পর্যটনের নাম শুনলেই যে জায়গাটির কথা সবার আগে মনে পড়ে, তা হলো জাফলং। ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই এলাকায় রয়েছে পাহাড়ের পাদদেশে বয়ে যাওয়া পিয়াইন নদী। নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পাথর আর স্বচ্ছ পানির ধারা মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দূরে দেখা যায় পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ছোট ছোট ঝরনা। ঈদের ছুটিতে জাফলং এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়লেও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে কোনো কমতি থাকে না।

বিছানাকান্দি: ঝরনার সুরে প্রকৃতির গান


গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছানাকান্দি সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনার পানি পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে তৈরি করে এক অপূর্ব দৃশ্য। চারদিকে সবুজ পাহাড় আর মাঝখানে স্বচ্ছ পানির ধারা—সব মিলিয়ে এখানে দাঁড়ালে মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজেই সাজিয়েছে এক শান্ত সৌন্দর্যের ভুবন। ঈদের সময় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের কাছে এটি একটি বিশেষ আকর্ষণ।

লালাখাল: নীল পানির মোহ


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল তার নীলাভ পানির জন্য বিখ্যাত। পাহাড়ি উৎস থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ পানি আর নদীর দুই তীরের সবুজ গাছপালা একসঙ্গে মিলে তৈরি করেছে মনোরম পরিবেশ। নৌকায় চড়ে নদীর বুক দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সময় দূরের পাহাড়ি দৃশ্য ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। ঈদের ছুটিতে অনেকেই এখানে এসে প্রকৃতির ভিন্ন এক রূপের স্বাদ নেন।

চা-বাগান: সবুজের সমুদ্রে হাঁটা


সিলেটের সৌন্দর্যের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ চা-বাগান। মালনীছড়া, লাক্কাতুড়া, খাদিমনগর, তারাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এসব বাগান শুধু অর্থনীতির অংশ নয়, বরং পর্যটনেরও অন্যতম আকর্ষণ। উঁচু-নিচু টিলা জুড়ে সবুজ চা-গাছের সারি, কুয়াশাভেজা সকাল কিংবা সোনালি বিকেল সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। অনেকেই এসব বাগানে হেঁটে বেড়ান, ছবি তোলেন এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে চেষ্টা করেন।

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট: পানির বনে ভিন্ন অভিজ্ঞতা


সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত রাতারগুল দেশের একমাত্র মিঠা পানির জলাবন। বর্ষা মৌসুমে কিংবা বর্ষা শেষে যখন বনের ভেতর পানি জমে থাকে, তখন নৌকায় করে এই বন ঘুরে দেখা যায়। পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গাছ, পাখির ডাক আর নিস্তব্ধ পরিবেশ এক রহস্যময় আবহ তৈরি করে। ঈদের ছুটিতে যারা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে চমৎকার একটি গন্তব্য।

খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান: অরণ্যের শান্ত ছায়া


সিলেট শহরের অদূরে অবস্থিত খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ স্থান। ঘন সবুজ বন, উঁচু-নিচু টিলা আর সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে এখানে পাওয়া যায় প্রকৃতির নিবিড় স্পর্শ। পাখির ডাক, বাতাসের শব্দ আর অরণ্যের নীরবতা মানুষকে এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়। যারা কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এই উদ্যানটি উপযুক্ত।

সাদাপাথর: স্বচ্ছ জলে সাদা পাথরের ঝিলিক


কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর এলাকাও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বচ্ছ পানির নিচে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথর দূর থেকেই ঝলমল করে। পাহাড়ি ঢল নামলে নদীর পানি আরও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, যা দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

ধর্মীয় পর্যটন: মাজারকেন্দ্রিক ভ্রমণ


সিলেট ভ্রমণে ধর্মীয় স্থানগুলোর গুরুত্বও রয়েছে। নগরীর হযরত শাহজালাল (র.) ও শহরতলির হযরত শাহপরাণ (র.)-এর মাজার মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের সময় এসব স্থানে ভক্তদের ভিড় বাড়ে। অনেকেই নামাজ শেষে এখানে এসে জিয়ারত করেন এবং কিছু সময় প্রার্থনায় কাটান।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, ঈদ, পর্যটন, ঘুরাঘুরি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ