সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
পুলিশের কাছে ময়নাতদন্তে ৩ হাজার ও গোসলে ২ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১১ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির দেওয়া বিনামূল্যের টিউবওয়েল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে ইউএনডিপি থেকে শাল্লা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ২০০টি টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী এগুলো উপকারভোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব টিউবওয়েল বিতরণের মাধ্যমে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক উপকারভোগী জানান, অফিসে ডেকে এনে সরাসরি টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কার্যালয়ের মেকানিক বিদ্যুৎ কুমার দাসের মাধ্যমেও বিভিন্ন গ্রামের উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে।
সরেজমিনে ইউএনডিপির তালিকাভুক্ত কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হবিবপুর ইউনিয়নের মৌরাপুর গ্রামের জন্টু চন্দ্র দাসের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার এবং সাউদেরশ্রী গ্রামের রতন চৌধুরীর কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে মৌরাপুর গ্রামের তারাচাঁদ দাসকে টিউবওয়েল পাওয়ার পর ১৫ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া শাল্লা ইউনিয়নের সহদেবপাশা গ্রামের আবুল হোসেনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং একই গ্রামের এরশাদ মিয়া ও বাহাড়া ইউনিয়নের রুপসা গ্রামের প্রণতি রানী মহানায়কসহ অন্তত দেড় শতাধিক উপকারভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় বেশ কিছুদিন আগে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল ওই ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অপর পাশে থাকা এক ব্যক্তিকে প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম বলছেন তুমি প্রতিটি টিউবওয়েল থেকে ত্রিশ হাজার টাকা নিবা। পাঁচ হাজার তোমার বাকি সব আমার। আর মসজিদের টিউবওয়েল হলে দশ হাজার টাকা নিবা।
গ্রাহকদের কাছ থেকে অল্প টাকা নিয়েছি স্বীকার করে জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের মেকানিক বিদুৎ কুমার দাস, বলেন আমি সামান্য টাকা নিয়েছি। আমার অল্প টাকা হলেই চলে। এগুলো খরচাপাতি করি।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা দেদারসে টাকা নিচ্ছে এটা সত্য। আমি দুই-চারটা টিউবওয়েল থেকে টাকা নিয়েছি, যেটা কেউ খোঁজে পাবে না। টাকার মাধ্যমেই হউক আর যেভাবেই হউক ইউএনডিপির দু'চারটা টিউবওয়েল দেওয়ার ক্ষমতা আমি রাখি।’
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেকুজ্জামান বলেন, ইউএনডিপি’র টিউবওয়েল থেকে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আপনারা লিখেন, লিখে চাকরি-বাকরি খেয়ে দেন।
তিনি বলেন, যারা ভুক্তভোগী রয়েছে তারা লিখিত অভিযোগ করুক। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়ে যাবে।
শাল্লা, অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য