২৬ মে ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

চামড়া শিল্পকে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত করার উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৬ মে, ২০২৬ ৮:৫০ অপরাহ্ন


বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে এই খাতকে একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।  

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।  

 

মন্ত্রী বলেন, সাভারে অবস্থিত সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (সিইটিপি) কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ইতালীয় একটা কোম্পানি সমীক্ষা চালাচ্ছে। ঈদের দুই সপ্তাহের তাদের রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

 

তিনি বলেন, সিইটিপির বর্তমান দৈনিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৪ থেকে ১৭ হাজার কিউবিক মিটার। এটিকে প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীত করা হবে। এছাড়াও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্রোমিয়াম রিকভারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় যে সমস্ত ট্যানারি ক্ষতির মুখে পড়ে সচল হতে পারেনি, সেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে চামড়া খাতে দেশি-বিদেশি নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করছে ।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া খাতের উন্নয়নে লজিস্টিক সমস্যাগুলো দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় সাভারের সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর জন্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলে লবণ মাখিয়ে চামড়া সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যথাযথভাবে লবণ মাখানো হলে চামড়াগুলো ১০ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত কারখানায় না পাঠিয়েও সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা সারা বছর কারখানার কাঁচামালের যোগান নিশ্চিত করবে। 

 

এর আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের বড় সম্পদ। যদি আমরা এই চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারি, তবে সারা বছর বিদেশে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। 

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এক সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে কোরবানির সব চামড়া দিয়ে ব্যাগ বা জুতা বানিয়ে রপ্তানি করার মতো পর্যাপ্ত ফ্যাক্টরি এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই সব চামড়া একসাথে সাভারের হেমায়েতপুরে না পাঠিয়ে অন্তত প্রথম ১০ দিন স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। যাতে সেখানকার সিইটিপি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

 

চামড়া সংরক্ষণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চামড়া থেকে রক্ত ও চর্বি সরিয়ে গরুর চামড়ার ক্ষেত্রে পরিমাণমতো লবণ মাখিয়ে রাখতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত চামড়া ব্যবহারের উপযোগী থাকে এবং এর ন্যায্য মূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। 

 

তিনি বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনগুলো সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চামড়া শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। 

 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

চামড়া শিল্প, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট খবর, চামড়া রপ্তানি, কোরবানির চামড়া

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ