সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
পুলিশের কাছে ময়নাতদন্তে ৩ হাজার ও গোসলে ২ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ২৪ মে, ২০২৬ ৬:৪৬ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে উদ্ধার হওয়া এক বেওয়ারিশ নারীর লাশ ময়নাতদন্ত ও দাফনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। তবে একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর মানবিক সহায়তায় শেষ পর্যন্ত লাশ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই আনোয়ার জানান, গতকাল ছাতক থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতালে আনা হয়। লাশ হাসপাতালের হিমাগারে রাখার সময় প্রথমে টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি ৭০০ টাকা দেন।
তিনি বলেন, আজ ময়নাতদন্তের সময় বলা হয় কাটাছেঁড়া করতে ৩ হাজার টাকা লাগবে। আমি বললাম এত টাকা দেওয়া সম্ভব না। পরে অনেক অনুরোধের পর ১ হাজার ৫০০ টাকা নেয়।
এসআই আনোয়ারের অভিযোগ করে জানান, পরে বেওয়ারিশ লাশটি গোসল ও দাফনের ব্যবস্থা করতে গেলে আরও টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, একজন মহিলা লাশ গোসল করাতে ২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে বলা হয়, তাদের লোক দিয়ে দাফন করতে হলে ৭ হাজার টাকা লাগবে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, বিষয়টি খুব কষ্ট দিয়েছে। আমরা পুলিশ সদস্যরা আইনি প্রয়োজনে লাশ হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা ভালো ব্যবহার করেন। কিন্তু ডোমদের কাছ থেকে টাকা ছাড়া সহযোগিতা পাওয়া কঠিন। বেশি কিছু বললে তারা অনেক সময় কাজ ফেলে চলে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ওসি রতন শেখ । সেখানে তিনি বেওয়ারিশ নারীর লাশ দাফনে সহযোগিতা চান। পোস্ট দেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকজন তরুণ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ওসি রতন শেখ বলেন, একজন ছেলে ফোন করে জানায়, সে তার মাকে নিয়ে আসবে। পরে ওই নারী পর্দার আড়ালে থেকে লাশ গোসল করাতে রাজি হন। আরও কয়েকজন কবর খোঁড়া ও দাফনের দায়িত্ব নেন। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সচালকেরাও বিনা খরচে লাশ কবরস্থানে নেওয়ার কথা বলেন। একজন বেওয়ারিশ মানুষ হলেও তার প্রতি মানবিক দায়িত্ব আছে। সবাই যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে হাসপাতালকেন্দ্রিক এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, এরকম কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে হাসপাতালে বেওয়ারিশ লাশ গোসল করানো থেকে শুরু করে ময়নাতদন্তে কোন টাকার প্রয়োজন হয় না। যদি থানার কর্মকর্তারা আমাদের অভিযোগ দেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। এটি আইনগত অপরাধ।
সুনামগঞ্জ, বেওয়ারিশ, ময়নাতদন্ত, অভিযোগ, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল