২৩ মে ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ১৯ মাস ধরে টিসিবির পণ্য তুলছেন ডিলারের চাচাতো ভাই

প্রতিনিধি, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২২ মে, ২০২৬ ১:২৮ অপরাহ্ন


ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের শরীয়তপুর গ্রামের বাসিন্দা তরী এন্টারপ্রাইজের টিসিবির নিয়োজিত ডিলার মনির হোসেন (৩২)। তিনি ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর থেকে সৌদি আরব রয়েছেন। এরপর থেকে ওই ডিলারের স্বাক্ষরজাল করে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তার আপন চাচাতো ভাই একই ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (৪৫) গত ১৯ মাস ধরে টিসিবির পণ্য তুলে তা বিতরণ করে আসছেন।



ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় মানুষজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ন্যায্যমূল্যে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি চিনি, দুই লিটার সোয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ৫৪০টাকা দামে বিতরণের জন্য ২০২৩ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আটজন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়।


উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের দুইজন টিসিবি’র ডিলার রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হলেন তরী এন্টারপ্রাইজের ডিলার মনির হোসেন। তার কার্ডধারীর সংখ্যা ২১০জন।



আর অপরজন ডিলার হলেন একই ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা ট্রেডার্সের ডিলার জাহাঙ্গীর আলম (৬০)। তার কার্ডধারীর সংখ্যা ২৬৯ জন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ডিলার জাহাঙ্গীর আলম কার্ডধারীদের মধ্যে টিসিবির পণ্য বিতরণ করে আর পণ্য উত্তোলন করেননি। এ অবস্থায় ডিলার মনির হোসেন সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ৪৭৯জন কার্ডধারীদের মধ্যে টিসিবি’র পণ্য বিতরণ করার দায়িত্ব পান।

অপরদিকে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের টিসিবি’র ডিলার হিসেবে নিয়োগ পান ওই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মেসার্স নাসিফা এন্টারপ্রাইজের ডিলার তানভীর কবীর (২৭)। এই ইউনিয়নে টিসিবির কার্ডধারী রয়েছেন ৪৬০ জন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলে ডিলার তানভীর কবীর ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আবেদন করে ডিলারশীপ পদ থেকে অব্যাহতি নেন। পরে ডিলার মনির হোসেনকে এই ইউনিয়নে টিসিবি পণ্য উত্তোলন করে বিতরণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর মনির হোসেন সৌদি আরব চলে যান। এ অবস্থায় ডিলার মনির হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তার আপন চাচাতো ভাই সবুজ মিয়া (৪৫) অবৈধভাবে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের টিসিবির কার্ডধারীদের মধ্যে টিসিবির পণ্য উত্তোলন করে তা বিতরণ করে আসছেন।



নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, টিসিবির ডিলার আছেন সৌদি আরবে, আর ডিলারশীপ চালান তার আপন চাচাতো ভাই সবুজ মিয়া। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এমন কাজ চলে আসছে। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও আইনের সুশাসন এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা দ্রুত এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার মনির হোসেনের আপন চাচাতো ভাই সবুজ মিয়া বলেন, মনির হোসেন তো গত ১৯ মাস ধরে সৌদি আরব আছে। যাওয়ার আগে সে তিনশত টাকার স্ট্যাম্প লিখিতভাবে তার ডিলারশীপ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছে। সেই স্টাম্পটি এখন খোঁজে পাচ্ছি না। টিসিবির পণ্য উত্তোলন করার জন্য কাগজপত্রে মনির হোসেনের পরিবর্তে তার অনুমতিতে আমিই স্বাক্ষর করেছি। এতদিন না বুঝে আমি এই কাজটি করেছি। আমার ভুল হয়ে গেছে। আগামী মাস থেকে আমি আর টিসিবি’র পণ্য উত্তোলন করব না।



সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহেল মিয়া বলেন, `আমি তো জানতাম সবুজ মিয়াই আমাদের ইউনিয়নের টিসিবি’র ডিলার। মনির হোসেন যে টিসিবি’র ডিলার এটাতো আগে জানতাম না। তাছাড়া গত দেড়বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে এলাকায় দেখছি না। আমি বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানাব'।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, `টিসিবির ডিলারশীপ বিক্রি বা হস্তান্তর করার কোনো সুযোগ নেই। গত ১৯ মাস ধরে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার মনির হোসেন সৌদি আরবে রয়েছেন বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, টিসিবি, স্বাক্ষর জাল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ