০১ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

জগন্নাথপুরে কুশিয়ারার চরে মাটি কাটার অভিযোগ, ঝুকিতে বাঁধ

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৮ মার্চ, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর চর ও বাঁধসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনা থামছেই না। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে খননযন্ত্র ও ট্রাক ব্যবহার করে নদীর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। মামলা ও প্রশাসনিক হুঁশিয়ারিরও কোনো তোয়াক্কা করছেন না তারা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর সদর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর দুই পাড়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাটিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নদীর শতাধিক স্থানে চরের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, বাঁধের স্থিতিশীলতা, কৃষিজমি এবং আশপাশের বাড়িঘর মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের তৎপরতা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকায় অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। অনেকে এ ঘটনায় স্থানীয় তহশিলদারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তুলেছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও যেন না দেখার ভান করছে।

 

অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ‘শাপলা ব্রিক ফিল্ড’-এর মালিক ফারুক মিয়া এবং জালালপুর গ্রামের আল আমিন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নদীর চর থেকে মাটি উত্তোলন করছেন।

 

তবে অভিযোগে নাম আসা শাপলা ব্রিক ফিল্ডের মালিক ফারুক মিয়া ও আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

 

পাইলগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দিন বলেন, ‘আমি আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে কুশিয়ারা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্চে অভিযোগ করেছি। প্রশাসনের কোন ভূমিকা পাইনি।’

 

জগন্নাথপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইরফানুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন, আমি নিতে পারি না।

 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন বলেন, ‘পাইলগাওঁ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পাড় কেটে নিচ্চে শুনেছি, খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বস্তা নেওয়া হবে।’

 

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর পাড় কেটে নেওয়া যাবে না। নদী রক্ষা করতে হবে আমাদের, যারা মাটি কেটে নিচ্চে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর,কুশিয়ারা নদী, মাটি কাটার অভিযোগ, সুনামগঞ্জ, ঝুকিতে বাঁধ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ