১৮ মে ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / প্রকৃতি

বৃক্ষরোপণই নেশা শাকিরের, এক যুগে ৩৫ হাজার গাছ রোপন

মিফতা হাসান

প্রকাশঃ ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১:২৫ অপরাহ্ন


বৃক্ষপ্রেমী শাহ সিকান্দার আহমদ শাকির। ৩৩ বছর বয়সী শাকিরের নেশাই বৃক্ষরোপণ। শুরুটা হয়েছিল প্রায় এক যুগ আগে। হুমায়ূন আহমেদ ও হুমায়ূন আজাদের মতো খ্যাতিমান লেখকদের জন্মদিন কিংবা পরিচিত কোন বন্ধুর জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে গাছ লাগাতেন তিনি। 

এখন এটিই তাঁর একমাত্র নেশা। সময় পেলে রিকশায় না চড়ে গন্তব্যে যান হেঁটে হেঁটে। হাঁটার পেছনেও কারণ একটাই। সড়কের গাছপালা ঠিকমতো বেড়ে ওঠছে নাকি অযত্নে মরে যাচ্ছে—এটা দেখার জন্য পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ান বেশিরভাগ সময়। 

এক যুগের এই দীর্ঘ যাত্রায় ৩৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন শাকির। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মুরারিচাঁদ কলেজ ও সরকারি কলেজসহ সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোভা পায় শাকিরের রোপণ করা গাছ। 

পরিবেশ বিধ্বংসী মানুষের ভীড়ে শাকিরের মতো মানুষের কার্যক্রম কিছুই না। তবুও শাকিরের নিরব বিপ্লবে সিলেটের প্রকৃতিতে প্রাণ ফিরছে। 

শাকিরের যাত্রার সূচনা হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে সিলেটের বিভিন্নস্থানে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেন প্রকৃতিপ্রেমি শাকির।

কিন্তু করোনাকালীন অক্সিজেনের সংকট নতুন করে ভাবতে শেখায় বৃক্ষপ্রেমী ওই যুবককে। তিনি উপলব্ধি করেন, জন্মভূমির প্রতি, এই মাটির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। দৈনন্দিন আমরা যে পরিমাণ অক্সিজেন নিচ্ছি, তার একটা বিনিময় পৃথিবীতে রেখে যাওয়া উচিত।
 
গত ১৩ বছরে সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩৫ হাজার ৩টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করেছেন শাকির। যা আজ চোখে পড়ার মতো। একইসঙ্গে অসংখ্য ফুল গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। 

বিজিবি ক্যাম্পের ভেতরে থাকা নয় বছর বয়সী বিশাল অর্জুন গাছ, কারাগার, এমসি কলেজ ও সরকারি কলেজের মাঠ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা চৌহাট্টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া ও কাঠবাদামের গাছগুলো তাঁরই যত্নে বেড়ে উঠেছে।
 
শাকিরের ভাষায়, ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের চিরকালের বন্ধু। মৃত্যুর আগ অব্দি বন্ধু। মানুষ উপকার ভুলে যেতে পারে, কিন্তু কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী কখনো উপকার ভুলে না।’ সিলেট ভয়েসকে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি প্রকৃতি বা পরিবেশকে সুস্থ্য রাখতে চাই—সৃষ্টিকর্তা আমাদের দৈনন্দিন যে পরিমাণ অক্সিজেন দিয়েছেন, তা যদি আমরা দিয়ে যেতে চাই, পৃথিবীতে এর চেয়ে দেওয়ার মতো সহজ কিছু ছিল না।’
 
তাই শাকির শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না, বরং নিজ তদারকিতে বড় হওয়া পর্যন্ত খোঁজখবরও রাখেন।
 
‘আমি এই শহরে অন্তত একশ জন মানুষের অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমি চাই, প্রতিটি জেলা, শহর ও গ্রামে অন্তত একজন করে বৃক্ষপ্রেমী তৈরি হোক। মানুষ যদি নিজ অবস্থান থেকে গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসে তাহলে পৃথিবী হবে সবুজময়, ধরণী থাকবে সুন্দর এবং আমরা থাকবো সুস্থ্য।’ গর্ব করে বলেন শাকির।
 
বৃক্ষপ্রেমী ওই যুবকের বিশ্বাস, ‘দিনশেষে বৃক্ষ থাকবে, কিন্তু টাকা থাকবে না।’ তাই সকলের প্রতি তাঁর একটাই অনুরোধ, সবাই যেন গাছ রোপনের উদ্যোগ নেয়। আমরা যেন গাছ রক্ষা করার জন্য কথা বলতে পারি। ‘গাছ রক্ষায়, গাছকে বাঁচাই’—এটাই হোক আমাদের স্লোগান।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

বৃক্ষপ্রেমী, শাহ সিকান্দার আহমদ, শাকির, বৃক্ষরোপণ, সিলেট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ