সিলেট নগরীতে যানজট নিরসন ও যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ৯ একর জায়গাজুড়ে নির্সাণ করা হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল। ২৫কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০০ ট্রাক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক টার্মিনালটি উদ্বোধন করা হয়েছে ২০১৯ সালে। কিন্তু ট্রাক চালক-মালিকদের অনীহা বিশাল পরিসরের টার্মিনালটি এখনও ফাঁকা। 


ট্রাক চালক-মালিকদের দাবি, টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। মসজিদ, বিশ্রামের জায়গা, গোসল ও খাবারের ব্যবস্থাও নেই সেখানে। নেই কোনো ওয়ার্কশপও। এতে করে কোনো ট্রাক চালক এই টার্মিনালে যেতে চান না। বিশেষ করে খাবারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কেউই টার্মিনালে যেতে আগ্রহী নয়। 


সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) বলছে, টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি  পরিচালনার জন্য ইজারাও দেওয়া হয়েছে। এখন সুযোগ সুবিধার বিষয় ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের। 


জানা গেছে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রায় ৯ একর জায়গায় ২৫কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রাক টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ১২০০ ট্রাক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন টার্মিনালটি ২০১৯ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করেন তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।


এরপর থেকে ট্রাক টার্মিনালটি উন্মুক্ত হলেও সড়ক থেকে ট্রাক পার্কিং বন্ধ হচ্ছে না। নগরীর চন্ডিরপুল ও  কদমতলীসহ বিভিন্ন সড়কে আগের মতো যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হচ্ছে শত শত ট্রাক। এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আর ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 


এ বিষয়ে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. দিলু মিয়া বলেন, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ হয়েছে, উদ্বোধনও করা হয়েছে। কিন্তু এর কাজ এখনো শেষ হয় নি। মসজিদ নেই, নামাজের জায়গা নেই। তাছাড়া বিশ্রামের জায়গা, গোসলের ও খাবারের ব্যবস্থা নেই। একটি ওয়ার্কশপও নেই সেখানে। এ অবস্থায় চালকরা যেতে চান না সেখানে। 


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বারবার বলে আসছি যে আমাদের জন্য ট্রাক টার্মিনালের কাজগুলো করে দিতে। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেই। আমরা বলেছি, ট্রাক টার্মিনালের কাজগুলো করে দিলে আমরা টার্মিনালের ভিতরে চলে যেতাম। আর কেউ রাস্তায় দাঁড়াতো না।’


তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ বারবার আমাদের বলে রাস্তাঘাটে ট্রাক থাকে কেন? আমরা কি করবো। সুবিধা না থাকলে তারা (ড্রাইভাররা) সেখানে কেন যাবে। 


এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজ রহমান বলেন, ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ কাজ আমরা করে দিয়েছি। এটি পরিচালনার জন্য ইজারাও দেওয়া হয়েছে। এখন ট্রাক টার্মিনালের জন্য যেসব সুবিধার কথা বলা হচ্ছে তা দেখবে ইজারাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান। 


তিনি আরও বলেন, ‘ইজারা চুক্তি অনুযায়ী তাদের চাহিদার আলোকে কিছু কাজ আমরা করে দেবো। সেজন্য বাজেট লাগবে। সিসিকের তহবিলে পর্যাপ্ত বাজেট নেই। বাজেট হলেও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো। আর নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ দেখবে।’ 


এ বিষয়ে ইজারা গ্রহীতা নাজির আহমেদ স্বপনকে একধিকবার কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নগরী থেকে একটু দুরে ট্রাক টার্মিনালটি। ট্রাক যত্রতত্র পার্কিং না হয়, সেজন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। ট্রাক চালক-মালিক সমিতির সাথে আলাপও করেছি। তাদের অভিযোগ, নতুন এ ট্রাক টার্মিনালে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। আর সবুজায়ন না থাকায় প্রচন্ড গরম। এজন্য চালকরা সেখানে যেতে চায় না।’


তিনি বলেন, ‘আমরা সুবিধাসহ সকল ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যাতে দ্রুত এ সুযোগ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করে ট্রাক টার্মিনালটি চালু করেন।’


শেয়ার করুনঃ

অনুসন্ধান থেকে আরো পড়ুন

সিলেট ট্রাক টার্মিনাল, দক্ষিণ সুরমা, ট্রাক পার্কিং সমস্যা, সিলেট যানজট, ট্রাক চালকদের দাবি