নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ শত ছাড়ালো
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১:৫৮ অপরাহ্ন
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জন। দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ভেসে আসা মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর অশনাক্ত মরদেহ গণকবর দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ২৭৫ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বন্যার পানিতে ভেসে আসা শত শত মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের জন্য নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় মরদেহ পড়ে থাকলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দ্রুত দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের দুর্যোগকবলিত পাহাড়ি এলাকা রাসুয়া থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ানের দেবঘাট বনাঞ্চলে অশনাক্ত মরদেহের জন্য গণকবর প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে গতকাল শতাধিক মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগের দিন শনিবার আরও ৯৬টি মরদেহ দাফন করা হয়েছিল।
চিতওয়ানের ভরতপুরের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আর্য বলেন, ‘বন্যার স্রোতে ভেসে আসা মরদেহগুলো দ্রুত পচে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সেগুলো দাফন করতে হচ্ছে।’
দাফনের আগে মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ার মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। চীন জানিয়েছে, উজানের একটি এলাকায় ভূমিধসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে নতুন একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি হঠাৎ নেমে এলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধসের পর বরফ, পাথর ও কাদামাটির স্রোতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তিব্বতেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো একদিকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
নেপাল, বন্যা, ভূমিধস, প্রাণহানি, উদ্ধার অভিযান, গণকবর