দিরাইয়ে মদসহ আটক এক
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ৪:২৮ অপরাহ্ন
সিলেট নগরীতে রিকশাভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য ঠেকাতে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি মোড়ে রিকশাভাড়ার তালিকা সাঁটিয়ে দেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
কিন্তু শুরুতেই সিসিকের এই তালিকা মানতে নারাজ ছিল রিকশা চালকরা। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত বচসা হতো। নগর কর্তৃপক্ষও রিকশাচালক-যাত্রীদের দ্বন্দ্বের দায় নিতে চায়নি। যার ফলে ভেস্তে যায় এই উদ্যোগ।
নগর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর চালকদের বেপরোয়া আচরণের কারণে রিকশাভাড়া নিয়ে এখন রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন চালকরা। এনিয়ে প্রতিদিনই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে রিকশাচালক ও যাত্রীদের মধ্যে।
সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীতে রিকশা ভাড়া নিয়ে প্রায়ই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বচসা হয়। এ অবস্থায় নগরবাসী দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
পরে এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিশিষ্টজনদের মতামতের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিকশাভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে নগর কর্তৃপক্ষ। ওই কমিটির মতামতের ভিত্তিতের রিকশাভাড়ার একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়। সেটি ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখ থেকে কার্যকর হয়।
তালিকায় প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা এবং ঘণ্টাপ্রতি ৫০ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সেই তালিকাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি মোড়ে বসানো হয়। যাতে করে যাতে করে রিকশাচালক ও যাত্রীদের চোখে পড়ে।
আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে রিকশা করে জিন্দাবাজারে অফিস করতে যান রহিমা আক্তার। তিনি সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার জন্য রিকশা নিয়ে থাকি। ৫ বছর আগেও যেখানে ১০ টাকায় যেখানে যাওয়া যেতো, এখন সেখানে ৪০-৫০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
আরেক যাত্রী সুমন দাস বলেন, ‘রিকশাচালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ধরকষাকষি করলে উল্টো ঝগড়া লেগে যায়। আর আগে আলাপ করে না গেলে গন্তব্যে গিয়ে যাত্রীদের সাথে খুব খারাপ আচরণ চালকরা। অনেক সময় তারা মারার জন্য তেড়েও আসে। এতে খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের উচিত ভাড়ার তালিকা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া।’
ঝরণারপাড় এলাকার বাসিন্দা কাওসার আহমেদ বলেন, ‘আমি আমার মাকে নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৫০ টাকা ভাড়া ফুরিয়ে (চুক্তি) আম্বরখানা আসি। কিন্তু আম্বরখানা পয়েন্টে এসে সে ৮০ টাকা দাবি করে। তখন আমি ৫০ টাকা দিবো বললে সে আমার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে এবং আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবাক হওয়ার মতো তথ্য হলো-এ ঘটনা দেখে একজন প্রত্যক্ষদর্শী এসে উল্টো আমাকে দোষারোপ শুরু করেন। তিনি রিকশাচালকের পক্ষে আমাকে আরও লাঞ্ছিত করেন।’ এ ধরণের বিব্রত ও মানহানিকর পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে জানান যাত্রী কাওসার আহমেদ।
রিকশাচালকদের দাবি, যানবাহনের যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তাদের পক্ষে আগের ভাড়ায় রিকশা চালানো সম্ভব নয়। তাছাড়াও অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া যেখানে বছরে বছরে বাড়ে , সেখানে রিকশা ভাড়া না বাড়ার কোনো কারণ নেই।
সিলেট নগরীতে ২০০৬ সাল থেকে রিকশা চালান নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদেরও পরিবার আছে, সন্তান আছে। সব কিছুর দাম বাড়লে আমরা কীভাবে আগের ভাড়ায় চালাব? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নুরুল বলেন ‘আগে ১০০ টাকা দিয়ে বাজার করলে কিছু জিনিস কেনা যেতো। এখন ৫০০ টাকায় ঠিকমতো কিছু পাওয়া যায় না। চাল-ডাল, তেল-লবণ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু আমাদের আয় আগের মতোই রয়ে গেছে। আমরা যদি ভাড়া না বাড়াই, তাহলে সংসার চালাবো কীভাবে।
রিকশাচালক চাঁন মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রিকশার চাকা ঘুরাতে হয়। তারপরও দিনশেষে হাতে তেমন কিছু থাকে না। আমরা পরিশ্রমের সঠিক দাম চাই, তাই ভাড়া বাড়ানো দরকার।’
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘নগরেরর যাত্রীদের সেবা দেয়া আমাদের কর্তব্য। এছাড়া রিকশাভাড়া নির্ধারণ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এবং দ্রুতই এটি নিয়ে আমরা কাজে নামবো।
সিলেট রিকশাভাড়া, রিকশাভাড়া নৈরাজ্য, সিলেট সিটি করপোরেশন, রিকশা চালক-যাত্রী দ্বন্দ্ব, সিলেট গণপরিবহন সমস্যা, ভাড়া নির্ধারণ সিলেট, সিসিক রিকশা ভাড়া, রিকশাভাড়া বৃদ্ধি, সিলেট যাত্রী দুর্ভোগ, রিকশাচালক সমস্যার কারণ, রিকশা চলাচল সিলেট, নাগরিক সেবা সিলেট