২৫ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

বিয়ানীবাজার

পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে পৌর সচিবকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৫ মে, ২০২৬ ৯:৫৩ অপরাহ্ন


সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভার অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে পৌর সচিব নিকুঞ্জ ব্যানার্জিকে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন উপজেলা বিএনপির দুই নেতা। পরে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

রোববার (২৪ মে) বেলা দুইটার দিকে পৌর সচিবের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে এদিন রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। সোমবার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আসে। পৌর সচিবকে হেনস্তাকারীরা হলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার হোসেন ও প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমদ। 

জানা গেছে, গত ২১ মে বিকাল চারটায় উন্মুক্ত দরপত্রে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমদ পৌরসভার পিএইচজি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র ১৮ লাখ ৭ হাজার টাকা মূল্য দায়ের করেন। সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় ফয়েজ আহমদকে ইজারা প্রদান করা হয়। একই সাথে ভ্যাট শতকরা ১৫ এবং ট্যাক্স শতকরা ১০ ভাগ নির্ধারণ করে তার ইজারা মূল্য দাড়ায় ২২ লাখ ৫১ হাজার ৭৫০ টাকা। এর সাথে মাঠ ভাড়াসহ আনুসাঙ্গিক আরও ব্যয় রয়েছে।

অস্থায়ী এ পশুর হাটের রেকর্ড মূল্য হওয়ায় ইজারাদার ফয়েজ আহমদসহ তারা শুভাকাঙ্খিরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা জাকারিয়া আহমদের সঙ্গে সমঝোতা করেন, যাতে প্রথম দরদাতা অপারগতা প্রকাশ করলে আইনগতভাবে দ্বিতীয় দরদাতা অস্থায়ী এ পশুর হাটের ইজারা পান। 

সূত্র জানায়, বিপত্তি বাঁধে সমঝোতার পর। উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ইজারাদার ফয়েজ আহমদসহ অন্যরা পৌরসভায় এসে জানতে পারেন সচিব নিকুঞ্চ ব্যানার্জি পে-অর্ডার ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার হোসেন এবং প্রচার সম্পাদক ও বাজার ইজারাদার ফয়েজ আহমদ সচিবকে চড় থাপ্পর মারতে শুরু করেন। এ সময় পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তারা এগিয়ে এসে সচিবকে উদ্ধার করেন।

পরে বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদারের কার্যালয়ে বৈঠক বসলে সচিবকে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সামাজিকভাবে ঘটনাটি নিষ্পত্তি করেন ইউএনও ও পৌর প্রশাসক উম্মে হাবিবা মজুমদার।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চড়-থাপ্পর বিষয়টি এড়িয়ে যান পৌর সচিব নিকুঞ্জ ব্যানার্জি। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জন্য অপমান ও লজ্জাজনক। সে কারণে কাউকে কিছুই জানাইনি। পে-অর্ডারটি ব্যাংকে কেন জমা দিলাম সেই বিষয় নিয়েই তারা আমাকে লাঞ্ছিত করে। যদিও বিকালের দিকে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিষয়টি ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে সুরাহা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে পৌরসভার অস্থায়ী পশুর হাট ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমদ ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেন, ‘পৌর সচিবকে লাঞ্চিত করার প্রশ্নই আসে না। তার সাথে আমাদের কিছুই ঘটেনি কিংবা ঘটার কথাও না।’

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ‘শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার কোন ঘটনা ঘটে নি। তবে তাদের মধ্যে উচ্চ বাক্যবিনিময় হয়েছে। আমরা বিষয়টি শক্তভাবে দেখেছি এবং বিকাল নাগাদ অভিযুক্তদের ডেকে আনলে তারা উত্তপ্ত হয়ে এ ধরনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

বিয়ানীবাজার সংবাদ, পশুর হাট ইজারা, পৌর সচিব লাঞ্ছিত, বিএনপি নেতা, সিলেট খবর

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ